নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নরসিংদী ও পলাশ: পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমান্বিত ক্ষণে দেশবাসীকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। আজ শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার নোয়াকান্দা-বক্তারপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ড. মঈন খান বলেন, “ইসলামের মূল বাণী হলো শান্তি। এই শান্তির বাণী অনুসরণ করে আমাদের সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে অন্যায়কে প্রতিহত করতে হবে।”
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকেই মুসলিম সমাজ ঐক্য ও অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে আসছে। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়েই এ দেশের মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই খেলাফত আন্দোলন থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের রাজনীতি—সবখানেই ইসলামের শান্তির বাণী শোষিতের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' ২০২৬ সালের এই ঈদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের সেই ঐতিহ্যবাহী মুসলিম জাতীয়তাবাদ আজ ২০২৬ সালে এসে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ড. মঈন খানের বক্তব্যে সেই ঐতিহাসিক ঐক্যের সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “সারা বিশ্বের মুসলমানেরা ভাই ভাই। বিশ্বের কোথাও যদি মুসলমানেরা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে তাদের উদ্ধার করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আজকের বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আপনারা সজাগ হয়ে উঠুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা সঠিক পথে, সত্যের পথে ও ন্যায়ের পথে থাকুন। তাহলেই মহান আল্লাহর রহমত আমাদের ওপর বর্ষিত হবে এবং বিশ্বের বুকে মুসলমানেরা নিজেদের গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে।”
ঈদের এই জামাতে ড. মঈন খানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশতিয়াক আহমেদ, পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিল্টন এবং পৌর বিএনপি সভাপতি আলম মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের লড়াই—সবক্ষেত্রেই ‘ঈদুল ফিতর’ ত্যাগের ও পুনর্জাগরণের বার্তা দেয়। ড. মঈন খানের এই বক্তব্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এই আহ্বান ২০২৬ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: পলাশ উপজেলা সংবাদ দাতা, নরসিংদী জেলা বিএনপি দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন।
বিশ্লেষণ: বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ঈদ সবসময়ই রাজনৈতিক ও সামাজিক পুনর্মিলনের বড় ক্ষেত্র। ১৯০০ সালের সেই গ্রামীণ ঈদগাহ থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক পলাশ—সবখানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান একই সূত্রে গাঁথা। ড. মঈন খানের এই ডাক ২০২৬ সালের ঈদকে এক প্রতিবাদী ও ঐক্যের উৎসবে পরিণত করেছে।
সুত্র: নরসিংদী-২ নির্বাচনী এলাকার ঈদ জামাত প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |