ভোলার মাঠে পার্থের হুঙ্কার: ‘চোখে চোখ রেখে বলেছিলাম তারেক রহমান আসবে’
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টে গেছে ভোলার রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের অবরুদ্ধ রাজনীতি শেষে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) ভোলার সদরের পরানগঞ্জে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তার রাজনৈতিক জীবনের এক সাহসী অধ্যায় স্মরণ করেছেন।
ভোলার রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) আজ ২০২৬ পর্যন্ত সবসময়ই ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই জনপদের সন্তান নাজিউর রহমান মঞ্জুর (পার্থের বাবা) এর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ তার বক্তব্যে ভোলার মানুষের সাথে তার পারিবারিক আবেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমার বাবার প্রতি আওয়ামী লীগের তোফায়েল সাহেবের কেন জানি একটা অ্যালার্জি ছিল। দীর্ঘ ১০ বছর আমার বাবাকে উনারা ভোলায় আসতেই দেননি।"
জনসভায় পার্থ অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন সংসদ ভবনের সেই দিনটি। তিনি বলেন, "আমি পার্লামেন্টে শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে বলেছিলাম—তারেক রহমান আসবে ইনশাল্লাহ।" আজ ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী পরিবেশে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপির নেতৃত্বের শক্তিশালী অবস্থান পার্থের সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয় সমর্থকরা।
জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পার্থ বলেন, "কারো বিরুদ্ধে কথা বলা আমার অন্তর থেকে আসে না। ২০০৮ সালেও জামায়াতের ভাইয়েরা আমার জন্য জান দিয়ে কাজ করেছে।" বাবার একটি উপদেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "বাবা বলেছিলেন—গাছ এক জায়গায় বড় হয়, সব জায়গায় হয় না। গাছ বদলালে ফল পাওয়া যায় না।" এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বিএনপি-বিজেপি জোটের প্রতি তার অবিচল আনুগত্যের প্রমাণ দেন।
গত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, "তারা আমার এক টাকার দুর্নীতি খুঁজে পায়নি, কিন্তু গত ১৭ বছর আমাকে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে দেয়নি।" ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এই সময়ে তিনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে ভোলা-বরিশাল ব্রিজসহ এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।
নির্বাচনি সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি ও বিজেপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে পার্থের বিজয় কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি ভোলার মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনে পার্থের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের এই বক্তব্য ভোলার রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ১৭ বছরের জমাটবদ্ধ ক্ষোভ আর আগামীর স্বপ্নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের অপেক্ষায় দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষ। প্রতিহিংসা নয়, বরং বাবার আদর্শ আর আধুনিক ভোলার স্বপ্নই পার্থের রাজনীতির মূল হাতিয়ার।
সূত্র: বাসস, প্রথম আলো (জানুয়ারি ২০২৬), ভোলা প্রতিনিধি সংবাদ এবং বিজেপি মিডিয়া সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |