অনুবাদ ও বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা/নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলাগুলোতে, বিশেষ করে ভারতের দীর্ঘ সীমান্তঘেঁষা রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক নির্বাচনী অগ্রগতি কোনো আকস্মিক আদর্শিক পরিবর্তন নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি এবং মূলধারার রাজনীতির প্রতি প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলার এক নীরব প্রতিবাদ। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য স্টেটসম্যান’ তাদের সম্পাদকীয়তে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
দ্য স্টেটসম্যানের মতে, রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনার সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। যেখানে অবকাঠামো দুর্বল এবং জনসেবা খণ্ডিত, সেখানে জামায়াতে ইসলামী তাদের নিবিড় সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, স্থানীয় ক্লিনিক, স্কুল এবং ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ঢাকার তৈরি করা স্লোগানের চেয়ে মাঠ পর্যায়ের এই সেবাগুলো প্রান্তিক ভোটারদের কাছে অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জাতীয় রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও কেন্দ্রের এই প্রভাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে আস্থা তৈরি করতে পারেনি। যখন রাষ্ট্রের উপস্থিতি ক্ষীণ হয় এবং মূলধারার দলগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, তখন ভোটাররা এমন সংগঠনকে পুরস্কৃত করে যারা মাঠে থেকে শৃঙ্খলা ও সেবা নিশ্চিত করে।
নয়াদিল্লির জন্য সীমান্তের কাছে কোনো ইসলামপন্থি দলের উত্থান নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের। বিশেষ করে আসামের নাগরিকপঞ্জি (NRC) বিতর্ক বা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগ বোধগম্য। তবে স্টেটসম্যান সতর্ক করে বলেছে যে, অতিরঞ্জিত আশঙ্কা যেন বাস্তবতাকে আড়াল না করে। নির্বাচনি মানচিত্র কোনো আদর্শিক রূপান্তর নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের অসন্তোষের পকেটগুলোকেই চিহ্নিত করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকাকে এই বার্তাটি প্রতিরক্ষামূলক হওয়ার চেয়ে আত্মসমালোচনামূলক হিসেবে দেখা উচিত। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে প্রায়শই কেবল ‘বাফার’ অঞ্চল বা নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নই একটি সীমান্তকে স্থিতিশীল করতে পারে, কেবল বক্তৃতা নয়।
গত এক দশকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট রুটে ভারত বড় বিনিয়োগ করলেও স্টেটসম্যান মনে করিয়ে দিয়েছে যে, সীমান্ত কেবল টহল বা প্রোটোকল দিয়ে পরিচালিত হয় না। এটি পরিচালিত হয় মানুষের জীবিকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে। যদি প্রান্তিক অঞ্চলকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হয়, তবে তারা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক কাহিনি লিখতে শুরু করে—যেমনটি এখন বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে দেখা যাচ্ছে।
বাংলার ইতিহাসে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় থেকেই সীমান্ত অঞ্চলগুলোর রাজনীতি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং পরবর্তীকালে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য প্রমাণ করে যে, রাজনীতি এখন ‘সেবা ও উপস্থিতির’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হলে বিকল্প শক্তির উত্থান অনিবার্য—স্টেটসম্যানের এই বিশ্লেষণ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
তথ্যসূত্র: সম্পাদকীয়, দ্য স্টেটসম্যান (ভারত), প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |