| বঙ্গাব্দ

ভাঙনের মুখে গণ অধিকার পরিষদ: নূর ও রাশেদ খাঁনের সিদ্ধান্তে দলে চরম বিদ্রোহ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-01-2026 ইং
  • 1772633 বার পঠিত
ভাঙনের মুখে গণ অধিকার পরিষদ: নূর ও রাশেদ খাঁনের সিদ্ধান্তে দলে চরম বিদ্রোহ।
ছবির ক্যাপশন: গণ অধিকার পরিষদ

গণ অধিকার পরিষদে চরম অস্থিরতা: বিএনপি-জামায়াত মেরুকরণে ভাঙনের মুখে নূর-রাশেদের দল!

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতেই ভাঙনের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)। বিএনপির সঙ্গে ‘এক’ আসনের সমঝোতা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের বিএনপিতে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরকার অসন্তোষ এখন রাজপথে ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) দিনভর দফায় দফায় পাল্টা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং দপ্তর সম্পাদককে অব্যাহতির ঘটনায় দলটিতে কার্যত দুটি ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংকটের মূলে বিএনপির সঙ্গে ‘গোপন’ সমঝোতা?

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার খবর চাউর হওয়ার পর। গণ অধিকার পরিষদের একাংশের অভিযোগ, দলের উচ্চতর পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল জোটমুক্ত থেকে এককভাবে নির্বাচন করা। কিন্তু দলের সভাপতি নুরুল হক নূর বিএনপির সঙ্গে একটি আসনের সমঝোতা এবং ভবিষ্যতের মন্ত্রিত্বের আশ্বাসে দলের মূল অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণ অধিকার পরিষদ এককভাবে নির্বাচন করবে এবং কোনো দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমঝোতা দলের সিদ্ধান্ত নয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নাটকীয়তা শুরু হয়। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন দ্রুত পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে ‘সাময়িকভাবে অব্যাহতি’ প্রদান করেন।

রাশেদ খাঁনের বিএনপিতে যোগ দেওয়া ও নেতৃত্ব সংকট

দলের সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের আকস্মিক দলবদল। গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি বিএনপির ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে নাম লেখান। এতে গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রায় দেড়শ প্রার্থী বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন—দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করে বা যোগ দেয়, তবে সাধারণ প্রার্থীরা কেন নিজেদের প্রতীকে লড়বে?

তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন নুরুল হক নূর ও হাসান আল মামুন। সেখানে রাশেদ খাঁনকেও দেখা গেছে। এই বৈঠকের পরই বিএনপির প্রতি নূরের 'নমনীয়' অবস্থান এবং 'ধানের শীষ' প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রবণতা দলের ভেতর অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢেলেছে। নূর অবশ্য দাবি করেছেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে ছিলাম এবং আগামীতেও জাতীয় সরকারে থাকব।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দলের উত্থান ও ভাঙন কোনো নতুন ঘটনা নয়।

  • ১৯০০-১৯৭১: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সব সময় তরুণদের নেতৃত্বে নতুন নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়েছে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ বা পরবর্তীতে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জন্ম—সবই ছিল সময়ের দাবি।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গণ অধিকার পরিষদ একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ‘লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি’র পুরনো রোগ ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে দলটিকে আবারও সংকটে ফেলেছে। জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে দোদুল্যমানতা এবং নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা দলটিকে অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষণ: নূরের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণ অধিকার পরিষদের দেড়শ প্রার্থী এখন ‘এতিম’ হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। যদি নূর একক আসনে বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করেন এবং বাকি প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েন, তবে দলটির নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। ১৯০০ সাল থেকে বাঙালির যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনা গড়ে উঠেছিল, ২০২৬ সালে এসে তা জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে আটকে গেছে।


তথ্যসূত্র (References):

১. প্রথম আলো ও কালবেলা অনলাইন - ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. গণ অধিকার পরিষদ প্রেস উইং - হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও অফিসিয়াল প্যাড। ৩. বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস উইং

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency