প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা/মানিকগঞ্জ: বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও রাজনৈতিক ইতিহাসে যেসব নারী পর্দার আড়ালে থেকে পরিবার ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, হুরুন নাহার রশীদ ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত—প্রতিটি যুগেই ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক পরিবারের নারীদের ত্যাগ ও বিচক্ষণতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সেই ধারাবাহিকতায়, দীর্ঘ কর্মময় ও তাৎপর্যময় জীবনের অধ্যায় শেষ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মা হুরুন নাহার রশীদ।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হুরুন নাহার ছিলেন মুন্নু গ্রুপ অব কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী। ১৯৫৫ সালে বিবাহের পর থেকেই স্বামীর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রতিটি ধাপে পাশে থেকেছেন তিনি।
মুন্নু গ্রুপের শক্ত ভিত: স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সংযমী নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় প্রতিষ্ঠানটি শৃঙ্খলা ফিরে পায়। বিশেষ করে মুন্নু সিরামিকের ব্র্যান্ড পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর দূরদৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
রাজনৈতিক ভারসাম্য: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের ঘনিষ্ঠতা সুপরিচিত। স্বামীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সংসারকে স্থিতিশীল রেখেছেন।
হুরুন নাহারের জীবনের অন্যতম অনন্য অধ্যায় হলো, স্বামীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কন্যা আফরোজা খানম রিতাকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব নিতে দেখা। স্বামীর সাফল্যের পেছনে স্থির সমর্থনের পর কন্যাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখে যাওয়া তাঁর জীবনের এক অনন্য পরিপূর্ণতা ছিল।
রোববার বাদ আসর মুন্নু মেডিকেল কলেজ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে স্বামীর পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিমানমন্ত্রীর মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন (১ মার্চ ২০২৬), মুন্নু গ্রুপ মিডিয়া সেল এবং ব্যক্তিত্বের আত্মজীবনী আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |