| বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসির নির্দেশ | ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৫

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-12-2025 ইং
  • 2139183 বার পঠিত
নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসির নির্দেশ | ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৫
ছবির ক্যাপশন: ইসির নির্দেশ

নির্বাচনে মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের নির্দেশ: বিটিভিসহ সব চ্যানেলে প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিতে ইসির কড়া বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) দেশের সকল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রার্থীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দল বা প্রার্থীকে একক আধিপত্য বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না।

ইসির নির্দেশনা ও আচরণবিধি ২০২৫

নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ২৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, টেলিভিশন টকশো, সাক্ষাৎকার বা নির্বাচনী সংলাপে কোনো প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। একইসাথে প্রতিটি মিডিয়া হাউসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো প্রার্থী বা দলকে হেয়প্রতিপন্ন করে কোনো কটূক্তি প্রচার না হয়।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: নির্বাচনী প্রচারণার বিবর্তন

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণার ইতিহাস দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৫০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মিডিয়ার ভূমিকা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে।

  • ১৯৫০-১৯৭০ (রেডিও ও লিফলেট যুগ): ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রচারণার মূল মাধ্যম ছিল জনসভা ও হ্যান্ডবিল। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন সরকার নিয়ন্ত্রিত রেডিওতে বিরোধী দলগুলোর সুযোগ ছিল সীমিত। ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান টেলিভিশনে (পিটিভি) ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পান, যা ছিল তৎকালীন সময়ের বড় একটি মোড়।

  • নব্বইয়ের দশক ও বিটিভি: ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিটিভিতে দলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকতো। তবে বেসরকারি টেলিভিশন না থাকায় প্রচারণায় বৈচিত্র্য ছিল কম।

  • ২০২৪-২০২৫ (ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট যুগ): ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের এই নির্বাচনে প্রচারণার ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো জনমত গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখছে। এই প্রেক্ষাপটেই ইসি এবার ‘সমান সুযোগ’ নিশ্চিতের ওপর কঠোর জোর দিয়েছে।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ অধিশাখা থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী সংলাপ বা সংবাদের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো বিশেষ প্রার্থীকে এককভাবে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা বা অন্যকে অবজ্ঞা করা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের শামিল। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেলগুলোকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।


বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক আধুনিক ও ডিজিটাল নির্বাচনী সংস্কৃতির মুখোমুখি। অতীতে সরকারি গণমাধ্যমের একতরফা প্রচারণার যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ইসি সেই প্রথা ভাঙতে চায়। টকশো বা সংলাপে ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধের নির্দেশটি মূলত রাজনৈতিক শিষ্টাচার ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ। যদি বেসরকারি চ্যানেলগুলো এই নির্দেশনা মেনে চলে, তবে ২০২৫ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রচারণার দিক থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (জনসংযোগ শাখা), বাংলাদেশ টেলিভিশন রেকর্ডস এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজ আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency