প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি তোরণ অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড়ে নির্মিত বাঁশ ও কাপড়ের তোরণটি ভেঙে ফেলা হয়। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানের এটি একটি প্রতিফলন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আইনের শাসন এবং প্রচারণার ধরণ গত ১২৬ বছরে বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় লিফলেট ও গোপন সভার মাধ্যমে প্রচারণা চলত। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেয়াল লিখন ছিল প্রতিবাদের প্রধান ভাষা।
স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণীত হলেও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা হয়েছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের লড়াই, তা ২০২৬ সালে এসে এক সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল এবং পরিবেশবান্ধব প্রচারণার ওপর জোর দেওয়ায় তোরণ বা গেট নির্মাণের মতো প্রথাগত প্রচারণার পথ সংকুচিত হয়েছে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তোরণ নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ম্যাজিস্ট্রেট বলেন:
"ডা. শফিকুর রহমানের সফরটি নির্বাচনী জনসভা সংশ্লিষ্ট এবং নির্বাচনেরই অংশ। তাই সফর উপলক্ষে তোরণ নির্মাণ সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। আমরা সেখানে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে না পেয়ে নিজ উদ্যোগেই তোরণটি অপসারণ করেছি।"
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির গোলাম রাব্বানী বলেন, "দেশের বিভিন্ন স্থানে আমিরের সফরে তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্য জায়গায় যদি এগুলো রাখা যায়, তবে এখানে কেন নয়? অপসারণের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।"
রাজনীতিতে আইনের শাসন ও আচরণবিধি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতারা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন:
১৯৭০: "নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ব।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২০২৬ (ফেব্রুয়ারি): "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে বৈষম্যমূলক আচরণ কাম্য নয়।" — জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাম্প্রতিক ক্ষোভ।
২০২৬ (৫ ফেব্রুয়ারি): "নির্বাচনী মাঠে সবাই সমান, আইন সবার জন্য এক।" — নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সারজিস আলমের মতো আলোচিত ব্যক্তিত্বকেও জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে কমিশন ও প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। ১৯০০ সাল থেকে যে ক্ষমতার লড়াই ও মিছিল-মিটিংয়ের সংস্কৃতি আমরা দেখে এসেছি, তা এখন আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হচ্ছে। তোরণ অপসারণ কেবল একটি প্রচার সামগ্রী ধ্বংস নয়, বরং এটি একটি বার্তা যে নতুন বাংলাদেশে আইন সবার জন্য সমান।
সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদদাতা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ঐতিহাসিক গেজেট।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে ১৯০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রচারণার পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূলত ক্ষমতার দাপট বনাম নির্বাচনী আইনের শ্রেষ্ঠত্বের একটি তুলনামূলক চিত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |