| বঙ্গাব্দ

রাজউক দুর্নীতি: পলাতক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ৫ বছরের কারাদণ্ড

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2423268 বার পঠিত
রাজউক দুর্নীতি: পলাতক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ৫ বছরের কারাদণ্ড
ছবির ক্যাপশন: সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

রাজউক প্লট দুর্নীতি: পলাতক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পুরো পরিবার দণ্ডিত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলার ধারাবাহিক রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুরো পরিবারই দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হলো।

তিনটি পৃথক মামলায় শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য এবং রাজউকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

পুতুলসহ পরিবারের সদস্যদের দণ্ড এবং অভিযোগের ভিত্তি

বৃহস্পতিবারের রায়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি আগেই এই তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

  • পুতুলের দণ্ড: পাঁচ বছর কারাদণ্ড।

  • মামলার সারমর্ম: মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে ধানমন্ডির সুধাসদনে তার স্বামী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে থাকা প্লটের তথ্য গোপন করে মিথ্যা হলফনামা দেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি রাজউক বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত প্লট গ্রহণ করেন। অভিযোগ ছিল, এই অবৈধ প্লট পেতে রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল।

  • পলাতক আসামি: এই তিন মামলায় শুরু থেকেই শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ প্রধান আসামিরা পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন শুধু মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা।

গত রোববার (২৩ নভেম্বর) উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (২৭ নভেম্বর) ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতের বার্তা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রেক্ষাপট (১৯৫০-২০২৫)

একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের (যারা সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় নন) দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিচারিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন বার্তা বহন করছে।

  • রাজনৈতিক পরিবারের বিচার: ২০০০-এর দশক থেকে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই প্রথমবার শীর্ষ দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজকের এই রায় সেই ধারাকেই আরও জোরালো করল। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের এভাবে দণ্ডিত হওয়া একটি বিরল ঘটনা, যা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।) **

  • রাজউক দুর্নীতি: রাজউকের প্লট নিয়ে দুর্নীতি দশকের পর দশক ধরে দেশের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা। ক্ষমতা ব্যবহার করে প্লট ও অন্যান্য সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করার প্রবণতা রোধে এই রায়কে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।

আগামী ১ ডিসেম্বর: টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার রায়

এরই মধ্যে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ রেহানার মেয়ে এবং ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। এই রায়ও রাজনৈতিক পরিবারগুলোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


সূত্র

১. ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের রায়ের অনুলিপি ও কোর্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যাদি (২৭ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত রাজউক প্লট দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র বিশ্লেষণ। ৩. বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক দুর্নীতির ওপর গবেষকদের মন্তব্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency