অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সব ব্যর্থতার দায়’ এনসিপির কাঁধে—মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগও তুললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে অন্যান্য দল থাকলেও “ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতার দায়” নিতে হচ্ছে এনসিপিকে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা’র তৃতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, “মানুষ এনসিপির কাছে নতুনত্ব প্রত্যাশা করছে। আমরা মিডিয়ার চোখে চোখ রেখে কথা বলছি—সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলছি।”
হাসনাতের অভিযোগ, মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে এনসিপি নেতাদের চরিত্রহনন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “মিডিয়া ও সেনাবাহিনীর একটি অংশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে—আমরা তাদের বিরুদ্ধে একাই লড়ছি।”
৫ আগস্ট কক্সবাজার সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের নিয়ে বলা হলো, আমরা নাকি বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস–এর সঙ্গে বৈঠক করেছি—এটা ভিত্তিহীন। আমরা মিডিয়াবিরোধী নই, কিন্তু বস্তুনিষ্ঠতা চাই।”
হাসনাত আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদের কাছে রাজনীতি বন্দি হয়ে গেছে; রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকতে হবে।” গঠনের পর থেকে এনসিপির অর্জন কম নয় দাবি করে তিনি যোগ করেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে—আমরা পর্যালোচনা করি, ভুল স্বীকার করি। জনগণের পরামর্শ নিয়ে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করব।”
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন: ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নেন। তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫–এ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেন; নির্বাচন কমিশনকে সে অনুযায়ী আগাতে বলেন।
সংস্কার এজেন্ডা ও মানবাধিকার আলোচনার ধারা: ২০২৪–২৫ পর্যায়ে নিরাপত্তা খাত ও শাসনসংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সুপারিশ দেয়; রাজনৈতিক সংলাপ, দায়মুক্তি রুদ্ধ, ন্যায়বিচার-নির্ভর প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানায়।
পিআর বনাম এফপিটিপি: নির্বাচনী কাঠামোয় প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি নিয়ে দলে–দলে ভিন্নমত। ইসলামি ও ক্ষুদ্র কয়েকটি দল পিআরের পক্ষে সওয়াল করলেও বিরোধী জোটের বড় অংশ—বিশেষত বিএনপি—এতে সংরক্ষণশীল অবস্থানে; নাগরিক সমাজের অংশ থেকেও পিআর–এ ক্ষমতার অস্থিরতা–ঝুঁকির কথা উঠে আসে।
‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বিতর্ক: উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ইস্যুতে trial by media—রায়ের আগে–পরে গণমাধ্যম কাভারেজে সামাজিক রায় গঠনের অভিযোগ নতুন নয়; এতে due process–এর শঙ্কার কথাও উঠেছে আন্তর্জাতিক সাহিত্যে।
১) দায় আর প্রত্যাশার দ্বিমুখী চাপ
অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় এনসিপির নেতৃত্ব-সম্পৃক্ততা তাদের ওপর পারফরম্যান্স দায় বাড়িয়েছে। মাঠরাজনীতিতে “নতুনত্ব” প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর নীতিগত স্পষ্টতা, দ্রুত ফল এবং সংযত ভাষ্য—তিনটিই এখন জরুরি।
২) ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বয়ান—কৌশলগত, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ
মিডিয়ার একাংশকে এককাঠি নেড়ে বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্ন তোলা—রাজনৈতিকভাবে সমর্থকঘাঁটি চাঙা করতে পারে; তবে ফ্যাক্ট-চেকযোগ্য প্রমাণ না দিলে তা রিভার্স ব্লোব্যাক ডেকে আনতে পারে। গণমাধ্যম ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতি নিয়ে মন্তব্যে সতর্ক কূটনীতি দরকার।
৩) পিআর বিতর্কে ‘মধ্যপন্থা’ দরকার
পিআর সমর্থকদের যুক্তি—বিচিত্র রাজনৈতিক মত সংসদে প্রতিফলিত হবে; বিরোধীদের আশঙ্কা—চাপা মেরুকরণ ও অস্থিতিশীল জোটরাজনীতি। এই টানাপোড়েনে রোডম্যাপ–নির্ভর সমাধান—পাইলটিং, জেলায়–জেলায় মিশ্র আসন কাঠামো, স্বচ্ছ ইসি–ডায়ালগ—সম্ভাব্য ‘মধ্যপথ’।
৪) ‘বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি’—কন্টেন্ট বনাম কন্টেইনার
হাসনাতের ‘বাংলাদেশপন্থি’ ট্যাগলাইন জাতীয়তাবাদী আবেগের সঙ্গে যায়; কিন্তু নীতিগত কন্টেন্ট—অর্থনীতি (দাম, চাকরি), আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা–স্বাস্থ্য—এখানে পরিমাপযোগ্য KPIs না দিলে স্লোগানই থেকে যাবে। HRW–এর সংস্কার সুপারিশের মতো ডেলিভারি-চেকলিস্ট প্রকাশ করলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
Euronews: অন্তর্বর্তী নেতা মুহাম্মদ ইউনূসের নির্বাচনী সময়সূচি–সংক্রান্ত ঘোষণা (৫ অগস্ট ২০২৫, ও ৮ অগস্ট ২০২৪–এর প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন)।
Human Rights Watch (রিপোর্ট): After the Monsoon Revolution: A Roadmap to Lasting Security Sector Reform in Bangladesh—সংস্কার প্রক্রিয়ার সুপারিশপত্র।
UNB/TBS/TOI (বাছাইকৃত রিপোর্ট): পিআর পদ্ধতি নিয়ে সমর্থন–বিরোধিতা, নাগরিক ও দলীয় নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |