প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে ফিরছে ভোটের উৎসব। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচারের সুযোগ থাকলেও প্রথম পাঁচ দিনেই (সোমবার পর্যন্ত) রাজপথ দখলে নিয়েছে বড় রাজনৈতিক দলগুলো। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন চায়ের দোকান থেকে বৈঠকখানা—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘কার পাল্লা ভারী’।
বিএনপির এবারের প্রচারণার তুরুপের তাস হলেন দলের চেয়ারম্যান তarek রহমান। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও বিদ্বেষমুক্ত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
সরাসরি অংশগ্রহণ: পাঁচ দিনে তিনি ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৪টি জনসভায় সশরীরে অংশ নিয়েছেন।
ইয়ুথ পলিসি টক: প্রথাগত জনসভার বাইরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘ইয়ুথ পলিসি টক’-এ অংশ নিচ্ছেন তিনি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তরুণদের পরামর্শ শোনা ও নিজের পরিকল্পনা জানানোয় তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বক্তব্যে শালীনতা: প্রতিপক্ষকে গিবত বা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নিজের ইশতেহার তুলে ধরার কৌশলটিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছেন।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পাঁচ দিনে ১৫টি জনসভা করে নির্বাচনি মাঠে শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছেন।
ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইন: জনসভার পাশাপাশি ‘ঘরমুখী প্রচারণা’ জামায়াতের প্রধান শক্তি।
এজেন্ট প্রশিক্ষণ: ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়া এবং ফলাফল গণনা পর্যন্ত তিন স্তরের এজেন্ট চূড়ান্ত করার কাজ করছে দলটি।
আমানতদারিতার শপথ: চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা করেছেন, “ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।” উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী’ বানানোর প্রতিশ্রুতিও ভোটারদের আকর্ষণ করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফসল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে জোট করে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩টি আসনে এককভাবে লড়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা দিচ্ছে। জাতীয় পার্টি তাদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে বড় চমক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’-এর মাধ্যমে পোস্টার ও মাইকিংবিহীন এক নতুন মডেলের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর এই ‘নীরব বিপ্লব’ শিক্ষিত সমাজ ও সচেতন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বহু নির্বাচন হয়েছে। তবে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট বা ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
| রাজনৈতিক দল | প্রার্থীর সংখ্যা | প্রধান নির্বাচনি প্রতীক |
| বিএনপি | ২৮৮ | ধানের শীষ |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ২৫৩ | হাতপাখা |
| জামায়াতে ইসলামী | ২২৪ | দাঁড়িপাল্লা |
| জাতীয় পার্টি | ১৯২ | লাঙ্গল |
| গণঅধিকার পরিষদ | ৯০ | ট্রাক |
| এনসিপি | ৩২ | শাপলা কলি |
ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খানের মতে, এবার ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, দলগুলোর সদিচ্ছাও জরুরি।
সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিডিএস নিউজ আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ সংবাদদাতা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |