| বঙ্গাব্দ

জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায় চূড়ান্ত: আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 2984483 বার পঠিত
জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায় চূড়ান্ত: আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায় চূড়ান্ত

জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায় চূড়ান্ত: আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোট গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে ৫০টিরও বেশি আসন দাবির বিপরীতে জামায়াতের ২৭-২৮টি আসনের প্রস্তাব নিয়ে দুই দলের মধ্যে এক ধরনের ‘দর কষাকষি’ বা দড়ি টানাটানি অব্যাহত রয়েছে।

জোটের সমীকরণ ও দর কষাকষি

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা চলছে এবং তা মূলত রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হবে। দলীয় প্রতীক ঠিক রেখেই এই জোট হবে। এদিকে জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা দুই শতাধিক আসনে নিজেদের প্রার্থী দেবে এবং এনসিপি ও এবি পার্টিসহ অন্যান্য মিত্রদের জন্য ৮০টি আসন বরাদ্দ রেখেছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করার পর জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে আলোচনার গতি বৃদ্ধি পায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবারই (২৬ ডিসেম্বর) এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এনসিপি নেতা মুশফিক উস সালেহীন জানিয়েছেন, চূড়ান্ত হওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: আদর্শিক ও নির্বাচনী জোটের বিবর্তন

বাংলাদেশের নির্বাচনী জোটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট ছিল শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য। পরবর্তীতে ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তিন জোটের রূপরেখা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিভিন্ন বড় দলের জোট বা বোঝাপড়া ক্ষমতার পাল্লা ভারী করতে সাহায্য করেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের এই নতুন জোট মূলত ‘জুলাই সনদে’র আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। তবে জামায়াত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি এখনো তা করেনি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতূহল ও বিতর্ক রয়েছে। ১৯৫০ সালে যেখানে জোটের মূল লক্ষ্য ছিল স্বায়ত্তশাসন, ২০২৫ সালে এসে সেই লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর।

এনসিপির চ্যালেঞ্জ ও নবীন নেতৃত্বের অগ্নিপরীক্ষা

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম থেকেই এককভাবে নির্বাচনের কথা বললেও বাস্তবতার নিরিখে এখন জামায়াতের সাথে বোঝাপড়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির নেতৃত্বের বড় অংশই তরুণ ও নবীন, যা তাদের জন্য যেমন এক সুযোগ, তেমনি অভিজ্ঞ জামায়াতের সাথে আসন ভাগাভাগিতে টিকে থাকাটা এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ইতিমধ্যে এনসিপির অভ্যন্তরে কিছু কোন্দল ও পদত্যাগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আসন বণ্টন নিয়ে এই জটিলতা তত দ্রুত সমাধান না হলে নির্বাচনি মাঠে প্রস্তুতির সময় কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সূত্র: ১. এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও যুগান্তর প্রতিবেদন। ২. নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোটের ঐতিহাসিক আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency