গাজা, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ – টানা ছয় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই গাজা উপত্যকা পরিদর্শনে গেলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার) তার এই সফর সংঘাতপীড়িত অঞ্চলের পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগের মধ্যে ঘটলো। নেতানিয়াহুর সাথে ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি সেনাদের মনোবল বাড়াতে বক্তব্য দেন এবং সরাসরি ঘোষণা করেন—"হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান এখনো শেষ হয়নি, বরং আরও আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুক তারা।"
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যারা ধ্বংসের হুমকি দেয়, তাদের আমরা ছাড় দেবো না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বক্তব্য আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাজা উপত্যকার অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থান এবং সাধারণ আবাসিক ভবন—কোনো কিছুই এই যুদ্ধের বাইরে থাকেনি।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ১৮ মার্চ তা ভেঙে পুনরায় সর্বাত্মক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর থেকেই একের পর এক বোমা হামলায় বিপর্যস্ত হয় গাজার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল।
জাতিসংঘের হিসাবে, এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট তৈরি হয়েছে গোটা উপত্যকায়।
নেতানিয়াহুর এই সফর ও মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আরও একটি শিশুর মৃত্যুও এই বিশ্বের ব্যর্থতা।”
যুক্তরাষ্ট্র, যাদের সমর্থনে ইসরায়েল বহুদিন ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, তারাও চাপের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য রাষ্ট্র ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তবে এখনো বড় কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
নেতানিয়াহুর সফরে ইরান প্রসঙ্গ এবং হামাস নির্মূলের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিসরে সংঘাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য গোষ্ঠীকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. ওমর হান্নান বলেন, “এই পরিস্থিতি শুধু গাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। একে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য ছিল একধরনের কৌশলগত বার্তা—দেশীয় রাজনীতির চাপে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা।”
প্রতিদিন গাজার সাধারণ মানুষ নতুন করে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি তিনবার স্থানান্তরিত হয়েছেন, বলেন, “আমরা কোথায় যাবো? যেদিকে যাই, সেদিকেই বোমা। আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার কি নেই?”
বিশ্ব এখন এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে—মানবতা বনাম ভূরাজনীতি। একদিকে অস্ত্র, কূটনীতি আর আঞ্চলিক আধিপত্যের খেলা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কান্না, ক্ষুধা আর মৃত্যু।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |