প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালে এসে বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন এবং জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা নিয়ে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর ছায়া ফেলছে। রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কেবল বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন এবং কিছুটা অস্বস্তিকর চিত্র সামনে এনেছে।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান হাউস সদস্যদের এক সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ওপর একদমই সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মোদি তাকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ‘স্যার’ সম্বোধন করে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, "মোদি আমার কাছে এসে বলেছিলেন, 'স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?' আমি তাকে সময় দিয়েছি, কারণ আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তবে বর্তমানে ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল আছে, যার অর্ধেকই কেবল রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।" ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের এই অনড় অবস্থান মার্কিন নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে, যদিও ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা সম্প্রতি রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে।
উপমহাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং ছিল।
১৯০০-১৯৭১: বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ব্রিটিশ আমল থেকে ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এক ধরনের গোপন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত যোগাযোগ ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তখন রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) সমর্থনই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে ভারত কখনোই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি।
১৯৯১-২০২৪: স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে নতুন করে বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু হয়।
২০২৫-২০২৬ (বর্তমান সংকট): ২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন আইনসভায় ভারত ও চীনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তেল কেনার অভিযোগে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের একটি বিলের প্রস্তাব আসে। যদিও বর্তমানে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে, তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যিক তিক্ততার মাঝেই ট্রাম্প এক নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ভারত দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অ্যাপাচে যুদ্ধহেলিকপ্টার সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত মোট ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার অর্ডার দিয়েছে। যদিও নথিপত্র অনুযায়ী ভারতের অর্ডারের সংখ্যা ২৮টি, তবে ট্রাম্পের এই অতিরঞ্জিত দাবি থেকে স্পষ্ট যে, তিনি ভারতকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে নিজের বাণিজ্য বলয়ে আটকে রাখতে চাইছেন। ট্রাম্প বলেন, "আমরা নীতি পরিবর্তন করছি এবং এই প্রতিরক্ষা চুক্তি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।"
বিডিএস বুলবুল আহমেদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারত ও আমেরিকার এই আস্থার সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভারতের আধিপত্য কিছুটা ম্লান হতে পারে যদি তারা মার্কিন শুল্কের চাপে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা পশ্চিমা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের এই 'তেল কূটনীতি' ২০২৬ সালে এসে এক নতুন ঠান্ডা যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: ১. পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া) বিশেষ প্রতিবেদন (৭ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. দ্য হিন্দু ও ডন অনলাইন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. রিপাবলিকান হাউস মেম্বার রিট্রিট-এর অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |