| বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ৯০০ কোটি টাকার খাল উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-04-2025 ইং
  • 4756145 বার পঠিত
ঢাকায় ৯০০ কোটি টাকার খাল উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে
ছবির ক্যাপশন: ঢাকায় ৯০০ কোটি টাকার খাল উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে

৮৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প: উদ্দেশ্য জলাবদ্ধতা নিরসন, বাস্তবে গন্ধ-জলাবদ্ধতা বেড়েছে

২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খাল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৮৯৮ কোটি টাকা। উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পরিষ্কার ও আধুনিকীকরণ।

কিন্তু প্রকল্পে খাল উদ্ধারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় অসংখ্য সেতু, টয়লেট, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বাণিজ্যিক ফুডকোর্ট নির্মাণের মতো বহু বিতর্কিত ও অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো। এসবের মধ্যে অনেক কিছুই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত, এবং বাস্তবায়নের আগেই আবারও প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


বাসিন্দাদের অভিযোগ: মশা ও দুর্গন্ধে ঘরেই টেকা যায় না

মানিকনগর, মান্ডা ও আশপাশের এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, খালটি পরিষ্কারের কার্যক্রম বছরজুড়ে অনিয়মিত। বছরের পর বছর ধরে আবর্জনা জমে খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে জলাবদ্ধতা তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে অসহনীয় দুর্গন্ধ এবং মশার প্রকোপে জীবন অতিষ্ঠ

এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ঘুমাতে গেলে মনে হয়, মশারা যেন আমাদের রক্তে উৎসব করছে। আর খালপাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়াও মুশকিল। এমনকি খোলা জানালার পাশ দিয়েও দুর্গন্ধ ভেসে আসে।”


প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন ও ব্যয় হ্রাসের ঘোষণা

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া জানান, ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এতে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের যে অংশগুলো স্থানীয় মানুষের উপকারে আসছে না, সেগুলো বাদ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, “আগের প্রকল্পে পানি আইন অনুযায়ী খালের পাড় থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত দখল উচ্ছেদ করা হতো। কিন্তু বাস্তব কারণে এখন সিএস (Cadastral Survey) রেকর্ড অনুযায়ী উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নগরবিদ ও পরিবেশবিদরা।


নগর পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা: আইনের ব্যত্যয়ে দখলদারদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে?

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “যারা খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, তারা অবৈধ কাজ করেছেন। তাদের ছাড় দিলে ভবিষ্যতে দখলকারীদের উৎসাহ দেওয়া হবে। রাষ্ট্র যদি দখলদারদের দাবি মেনে নেয়, তাহলে খাল পুনরুদ্ধার আর সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের নামে যত্রতত্র অবকাঠামো নির্মাণ একধরনের অর্থ অপচয় এবং কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। খালের ভেতরে বাণিজ্যিক ফুডকোর্ট বানানো কি যুক্তিসংগত? বরং পুরো মনোযোগ খাল পুনরুদ্ধারে দেওয়া উচিত।”


স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও বন্ধ: প্রকল্পের আড়ালে অব্যবস্থা

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই খাল পরিষ্কারের নিয়মিত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে, পানি আটকে দুর্গন্ধ আরও বেড়েছে। বর্ষাকালে এই খাল থেকেই আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যার সমাধানে প্রকল্প নেয়া হলেও বাস্তবে তার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান নয়।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency