মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা প্রধানসহ ৬ জন গ্রেফতার
মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু জুনুনী এবং তার ৫ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল সোমবার (১৭ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারি অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানায় র্যাব কর্তৃপক্ষ।
গ্রেফতারকৃতরা মিয়ানমারের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত, যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা নাশকতার উদ্দেশ্যে একটি গোপন বৈঠকে অংশ নেয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের একটি বাড়িতে তারা বৈঠক করছিল, যেখানে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিল।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আতাউল্লাহ আবু জুনুনী, যিনি আরসার প্রধান, সেইসাথে আরও পাঁচজন সন্ত্রাসী সদস্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ২১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগৃহীত করেছিল বলে পুলিশের ধারণা। র্যাব জানিয়েছে, এসব অর্থ দিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা করছিল।
গ্রেফতারের পর, আজ মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের দুইটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে আতাউল্লাহ আবু জুনুনী অনেক সময় মিয়ানমারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত ছিলেন এবং তাকে নাশকতার বিভিন্ন পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
এই গ্রেফতারি ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা বাংলাদেশে বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
এদিকে, এই গ্রেফতারির পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য কোনো স্থান থাকবে না এবং দেশবাসীকে নিরাপদ রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |