জুলাই আন্দোলন হত্যা মামলা: মেনন, আতিকুল, দস্তগীর গাজী ও জুনায়েদ পলককে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর বনানী থানায় জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মো. শাহজাহান হত্যা মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ও গাজী গ্রুপ চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী, এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমানের আদালত পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সকালে কারাগার থেকে চারজন আসামিকে আদালতে হাজির করে বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছির আরাফাত।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে আবেদন করেন,
“তাদের এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হোক, কারণ তারা এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত।”
আদালত শুনানি শেষে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতে তোলা হলে নিরাপত্তার জন্য আসামিদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো ছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী—
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই “বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলন” চলাকালে ঢাকার এক কারখানার শ্রমিক মো. শাহজাহান বনানী থানার মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন।
তখন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
গুলিবিদ্ধ শাহজাহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চার দিন পর ২৩ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা সাজেদা বেগম পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর বনানী থানায় ৯৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ আছে, হামলার পরিকল্পনা ও উসকানির সঙ্গে কয়েকজন তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি সম্পৃক্ত ছিলেন।
মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে ডিবি (উত্তর) ইউনিটের বিশেষ টিম।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন,
“আমরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা উঠে এসেছে।”
| নাম | পদবী ও রাজনৈতিক পরিচয় | অবস্থান |
|---|---|---|
| রাশেদ খান মেনন | সভাপতি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি; সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী | কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ |
| আতিকুল ইসলাম | সাবেক মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন | পুলিশ হেফাজতে |
| গোলাম দস্তগীর গাজী | সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী; চেয়ারম্যান, গাজী গ্রুপ | রিমান্ডে |
| জুনায়েদ আহমেদ পলক | সাবেক প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় | জিজ্ঞাসাবাদে |
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,
“বিচারের নামে এখন সত্যিকার বিচার শুরু হচ্ছে। এই মামলাগুলো জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”
আওয়ামী লীগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। আইনি প্রক্রিয়া নয়, রাজনৈতিক প্রতিশোধ চলছে।”
আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভূতপূর্ব আইনি ধাক্কা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এ ধরনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি আসামি করা এবং গ্রেফতার দেখানো বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নজিরবিহীন ঘটনা।”
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
“যদি তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হয়, তাহলে এটি দেশের গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত হতে পারে।”
আদালত আগামী ১৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে ফরেনসিক প্রতিবেদন ও সাক্ষী বিবৃতি দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“Menon, Atiq, Gazi, Palak shown arrested in July Movement murder case” — The Daily Star, ৮ অক্টোবর ২০২৫
“BNP hails arrests of former AL leaders in murder case” — Dhaka Tribune, ৮ অক্টোবর ২০২৫
“Four former ministers shown arrested in Shahjahan killing case” — BDNews24, ৮ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |