বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকি’ ও ‘সুবিধাবাদের’ রাজনীতির অভিযোগ তুলে কঠোর হুঙ্কার দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—জনগণের ম্যান্ডেটকে ‘হাইকোর্ট’ দেখিয়ে বা বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকা যাবে না। জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এ দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচারী বা সুবিধাবাদী রাজনীতি সহ্য করবে না।
মাওলানা মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বিএনপির দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন।
দ্বিচারিতার অভিযোগ: তিনি দাবি করেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এক কথা বললেও নেপথ্যে ভিন্ন আচরণ করছে। ক্ষমতার মোহ তাদের এতটাই আচ্ছন্ন করেছে যে, তারা এখন এমন সব অধ্যাদেশ পছন্দ করছে যা তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু জবাবদিহিতার প্রস্তাবগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছে।
কঠোর শব্দচয়ন: “তলে তলে এক কথা আর প্রকাশ্যে আরেক কথা বলাকে আমাদের দেশে মুনাফেকি বলা হয়”—মামুনুল হকের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমাবেশে মামুনুল হক দাবি করেন যে, দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন চায়।
জনগণের ম্যান্ডেট: গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের যে গণদাবি উঠেছে, সরকার তা উপেক্ষা করলে রাজপথেই তার ফয়সালা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রাজপথের লড়াই: তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করেন, তবে এ দেশের মানুষ রাজপথে আপনাদের মোকাবিলা করবে।”
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামি ও ডানপন্থী নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মোর্চা গঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল: সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল পর্যন্ত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: মাওলানা মামুনুল হকের এই বক্তব্যটি সরাসরি বিএনপি প্রধানের নেতৃত্বের প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই ১১ দলীয় জোট পিছু হটবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক সংকটে সরকার যদি দ্রুত আলোচনার পথ না খোঁজে, তবে মামুনুল হকের ‘রাজপথে জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ঢাকাকে আবারও এক অস্থির সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে ‘৭০ শতাংশ জনমত’ এর যে দাবি তিনি করেছেন, তা সরকারের বৈধতার সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি |
| সরকারের চরিত্র | মুনাফেকি ও সুবিধাবাদের রাজনীতি। |
| জনগণের ম্যান্ডেট | ৭০% জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া অসম্ভব। |
| সংবিধান | গণভোটের ফল অনুযায়ী দ্রুত সংস্কারের দাবি। |
| কর্মসূচি | রাজপথে মোকাবিলার চূড়ান্ত ঘোষণা। |
| অভিযোগ | ক্ষমতার লোভ ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় অনীহা। |
১. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
২. ১১ দলীয় ঐক্য জোট: বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের লাইভ কভারেজ।
৩. বিডিএস পলিটিক্যাল ডেস্ক: ২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মাওলানা মামুনুল হকের প্রভাব বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |