নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তেহরান ও ঢাকা: পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর আনন্দ ছাপিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে নতুন মোড় নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। শুক্রবার (২০ মার্চ, ২০২৬) এক লিখিত বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ইরান তার শত্রুদের ওপর এমন ‘ভয়াবহ আঘাত’ হেনেছে যে তারা এখন ‘অর্থহীন’ কথা বলতে শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে জানা গেছে, এই বার্তার পরপরই তেহরান ও জেরুজালেমে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকে রেজা শাহ পাহলভির আমল, ১৯৫৩ সালের সিআইএ সমর্থিত অভ্যুত্থান এবং ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ই ইরানকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধকামী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ১৯০০ সালের সেই পুরনো ভূ-রাজনৈতিক লড়াই আজ ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ ‘অসম যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।
২০২৬ সালের এই সংকটকালটি ইরানের জন্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। তবে নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া তাঁর এই লিখিত বার্তা প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের চেতনা আজও ইরানি নেতৃত্বের মূল চালিকাশক্তি।
ইরানের হামলার পাল্টা অভিযোগে ইসরায়েল দাবি করেছে, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির পবিত্র আল-আকসা মসজিদ এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারের মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে একটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় দাবি করেছেন, ইরানিদের জাতীয় ঐক্যই শত্রুকে পরাজিত করেছে। তিনি বলেন, “দেশবাসীর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।”
২১ মার্চ ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই। আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানকে এমন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। এই উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হতে চলেছে। সৌদি আরবও ইরানের ওপর হামলার হুমকি দেওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ২০২৬ সালের নওরোজ ইরানিদের জন্য আনন্দের বদলে কান্নার বার্তা নিয়ে এসেছে। তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ এবং মোজতবা খামেনির এই হুঙ্কার প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই ২০২৬ সালে এসে এক চরম ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স এবং মধ্যপ্রাচ্য সংবাদ আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে আজ অবধি ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও হামলা চালানো হলেও ২০২৬ সালের এই প্রত্যক্ষ যুদ্ধটি নজিরবিহীন। মোজতবা খামেনির পর্দার অন্তরালে থাকা এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া এক নতুন রণকৌশলের ইঙ্গিত দেয়। তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিকে ১৯৩০-এর দশকের মতো এক মহামন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সুত্র: এএফপি নিউজ, আল-জাজিরা বিশ্লেষণ এবং তেহরান টাইমস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |