লড়াইয়ের ইতিহাস ও তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর নতুন দিগন্ত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা/লন্ডন: একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তির দিন। আর ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষের কাছে ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন আবহে। একদিকে ৫৪তম বিজয় দিবস, অন্যদিকে দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যোদয় থেকে শুরু করে ২০২৫-এর এই মুহূর্তটি যেন এক নতুন ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ।
বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ১৯৭১-এ তা রূপ নেয় স্বাধীনতায়। তবে ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ২০০৭-এর ওয়ান-ইলেভেনের ছক দেশের রাজনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাড়ি দেওয়া তারেক রহমান দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সেখান থেকেই আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনেছেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই স্বপ্নের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। আজ ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন দেশজুড়ে বিজয়োল্লাস, তখন লন্ডনেও চলছে এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিচ্ছেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার আগে এটাই লন্ডনে তার শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু জানান, তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিদায়ী জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে অভাবনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে সবার সাথে আলাদাভাবে দেখা করা সম্ভব না হওয়ায় এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস্টনের বাসভবন থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারেক রহমান। পথে হাজারো নেতাকর্মী তাকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানাবেন। ২০০৭ সালে গ্রেফতার এবং ২০০৮ সালে দেশত্যাগের পর এই প্রথম তিনি মুক্ত স্বদেশে পা রাখছেন। তার এই ফেরা কেবল একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের একটি শক্তিশালী বার্তাও বটে।
বিজয় দিবসের এই বিশেষ দিনে দেশে ও বিদেশে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে লড়াইয়ের নতুন শপথ। লক্ষ্মীপুরে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, "একাত্তরের সেই শত্রুরা সাধারণ ক্ষমার অপব্যবহার করে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা পূর্ণতা পাবে।"
এদিকে, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক এবং সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৫০ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ ৭৫ বছরে বাংলাদেশ বারবার সংকটে পড়েছে। তবে ২০২৫ সাল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। একদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিদায় এবং অন্যদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও একাত্তরের বিজয়কে একীভূত করে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংবাদ নয়, বরং তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের একটি সমন্বয়। ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর টাইমলাইন যুক্ত করায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলিলে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |