নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে ‘নির্বাচনি আবেদন’ (Election Petition) দাখিল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও উক্ত আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দাখিলকৃত এই আবেদনে গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে অনিয়ম বা কারচুপির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করার বিধান রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন আসনের আরও ৩০ জনেরও বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে একই ধরণের আবেদন করেছেন। আদালত সেসব আসনের ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চটি বর্তমানে নিয়মিতভাবে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল হিসেবে এসব অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করছেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তানে নির্বাচনি অনিয়ম ছিল একটি সাধারণ বিষয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও নানা ধরণের অভিযোগ উঠেছিল। ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ বিচার বিভাগ আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে জয়ী পক্ষ বিএনপি হলেও, তাদেরই মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এই আইনি চ্যালেঞ্জ দেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ। ১৯৫০ সালে যা ছিল রাজপথের আন্দোলন, ২০২৬ সালে তা আইনের শাসনের মাধ্যমে আদালতে নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: ১. সুপ্রিম কোর্ট কজলিস্ট ও আইনি প্রতিবেদন (১২ মার্চ ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশে নির্বাচনি আইনি বির্তক ও আরপিও’র বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিটি খবর গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |