প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড় পদক্ষেপ নিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই-আগস্ট (২০২৪) মাসে ইন্টারনেট বন্ধ করে 'গণহত্যার' দায়ে দায়ের হওয়া এই মামলায় পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন এবং পলাতক আসামিকে আদালতে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর (২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দুজনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একইসঙ্গে, মামলায় পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রেখেছিলেন। এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।
অন্যদিকে, এই মামলার অপর আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন। ট্রাইব্যুনালে আজ পলকের পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী লিটন আহমেদ।
আইনজীবী আদালতকে জানান, জেল কর্তৃপক্ষ পলককে সপ্তাহে একদিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছেন না। একইসঙ্গে, ১৫ দিনে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি। আদালত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, তা পরবর্তী শুনানিতে জানা যাবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে মূলত ১৯৭১ সালের অপরাধের বিচার চলছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মতো সমসাময়িক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিলো।
এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনি কাঠামো ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও তাদের পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে 'গণহত্যার' অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াটি ২০২৫ সালের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ— এ সবই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রাজনৈতিক ও বিচারিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কোর্টরুম পর্যবেক্ষণ (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার নথি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |