বিশ্বের অন্যতম রক্তদাতা জেমস হ্যারিসন আর নেই, তার অবদান চিরকাল স্মরণীয়
বিশ্বের অন্যতম রক্তদাতা জেমস হ্যারিসন আর নেই। ২০ লাখেরও বেশি শিশুর জীবন বাঁচানো এই অস্ট্রেলিয়ান রক্তদাতা ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি নার্সিং হোমে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিস, পাশাপাশি তার পরিবারও এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে।
জেমস হ্যারিসন অস্ট্রেলিয়াতে ‘গোল্ডেন আর্ম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কারণ তার রক্ত কণিকায় এমন একটি বিশেষ অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টি ডি ছিল যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যান্টি ডি ছিল গর্ভাবস্থায় থাকা মহিলাদের রক্তের সঙ্গে শিশুর রক্তের অমিল জনিত বিপদ থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হ্যারিসনের রক্তের এই বিশেষ গুণের কারণে তার দান করা রক্ত কেবল শিশুদের জীবন বাঁচায়নি, বরং বহু মায়েদের জন্যও এটি ছিল জীবনদায়ী।
হ্যারিসনের রক্তদানে অবদান ১৯৫০ দশকের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল। ১৪ বছর বয়সে একটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পর রক্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা তাকে রক্তদান করার সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি নিজেও রক্তদান করবেন, এবং তার এই প্রতিশ্রুতি তিনি জীবনভর পালন করেছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে তিনি রক্তের প্লাজমা দান করতে শুরু করেন এবং ৮১ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহে রক্ত দেন।
২০০৫ সালে, জেমস হ্যারিসন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেন সর্বাধিক রক্তের প্লাজমা দান করার জন্য। ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ব রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন। হ্যারিসনের অবদান শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বিশ্বব্যাপী অসংখ্য শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার রক্তদান কর্মসূচি এখনো প্রেরণা হয়ে আছে বিশ্বজুড়ে।
হ্যারিসনের মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়ার রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিস গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, "জেমস হ্যারিসনের অবদান আমাদের রক্তদান সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি ছিল এবং তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তী। তার অমূল্য অবদান চিরকাল মনে রাখা হবে।"
জেমস হ্যারিসনের অসীম আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তার ভালোবাসা তাকে একটি আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছে। তিনি যে অজস্র জীবন বাঁচিয়েছেন, তা তার অগণিত অনুরাগী এবং যারা তার রক্তদান থেকে জীবন পেতে পেরেছে, তাদের কাছে একটি চিরকালীন স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি সত্যিই বিশ্বে এক অনন্য রক্তদাতা ছিলেন, এবং তার অবদান মানবতার ইতিহাসে চিরকাল অম্লান থাকবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |