| বঙ্গাব্দ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের হুঁশিয়ারি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-03-2026 ইং
  • 1876675 বার পঠিত
ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের হুঁশিয়ারি
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের হুঁশিয়ারি

সাম্রাজ্যবাদের পতন ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের লড়াই—ঢাকায় ইরানে হামলার প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) বিশ্বজুড়ে উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের অবস্থান সবসময়ই আপসহীন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায়, পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথ আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ইরানে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ইরানের ওপর হামলা ও খামেনির মৃত্যু

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরেন।

  • আগ্রাসনের চিত্র: বক্তারা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে, যাতে শত শত ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

  • নেতৃত্বের অবসান: এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার বিষয়টি সমাবেশে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।

  • পাল্টা প্রতিরোধ: ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলে পাল্টা মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার সমালোচনা

সমাবেশে ফয়জুল হাকিম বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেন।

"সরকারের বিবৃতিতে আক্রমণকারী (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল) এবং আক্রান্ত (ইরান) পক্ষকে এক করে দেখা হয়েছে। এমনকি পরোক্ষভাবে ইরানের নিন্দা করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মেরুদণ্ডহীন বিবৃতি বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে।"

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ সরকার কি স্বাধীন সার্বভৌম ইরানে এই বর্বর হামলা সমর্থন করে? সরকারকে এ বিষয়ে স্পষ্ট জবাবদিহিতার আহ্বান জানান তিনি।

ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ বিশ্লেষণ

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা হামলার নেপথ্য কারণগুলো বিশ্লেষণ করেন:

  1. তেল সম্পদ দখল: সৌরভ রায় বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের মূল লক্ষ্য ইরানের তেল সম্পদ দখল করা এবং পশ্চিম এশিয়ায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে চীন ও রাশিয়াকে মোকাবিলা করা।

  2. বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন: বক্তারা ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ এবং কিউবা দখলের হুমকির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটি নব্য-উপনিবেশবাদ কায়েমের চেষ্টা।

  3. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: রফিক আহমেদ স্মরণ করিয়ে দেন ২০০১ সালে আফগানিস্তান, ২০০৩ সালে ইরাক এবং ২০১১ সালে লিবিয়ায় হামলার কথা, যেখানে সাম্রাজ্যবাদীরা দেশগুলোকে ধ্বংস করে সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল।

সমাবেশের সারকথা ও আহ্বান

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতারা মনে করেন, এটি সাম্রাজ্যবাদের পতনের যুগ। পশ্চিমা শক্তি 'গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠার নামে যে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ করতে হবে। যারা 'আজাদির' কথা বলে এখন নিরব থাকছে, তাদের 'সাম্রাজ্যবাদের দালাল' হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়।


তথ্যসূত্র: প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের সরাসরি প্রতিবেদন (২ মার্চ ২০২৬), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মিডিয়া উইং এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ডেস্ক।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency