নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুই দেশের ‘বন্দিবিনিময়’ চুক্তির আওতায় দ্রুততম সময়ে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, মূল আসামিরা গ্রেফতার হওয়ায় এই খুনের নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতা বা ‘গডফাদারদের’ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "হাদি হত্যার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরণের চেষ্টা চালাচ্ছি।"
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশন ইতিমধ্যে ‘কনসুলার অ্যাকসেস’ চেয়েছে। এটি পাওয়া মাত্রই আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। ভারতীয় পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) শনিবার মধ্যরাতে বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করে, যারা বর্তমানে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
বাংলাদেশের ছাত্র ও যুব রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে এ দেশের ছাত্র সমাজ ছিল প্রগতিশীল ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শরিফ ওসমান বিন হাদির মতো তৎকালীন অনেক তরুণ মুখপাত্র রাজপথে রক্ত দিয়েছিলেন।
১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ভূমিকা ছিল ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বা ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব পরবর্তী সময়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ বা সমমনা সংগঠনগুলো যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি তুলছে, তা ১৯৫০-এর সেই অধিকার আদায়ের লড়াইয়েরই আধুনিক রূপ। ওসমানের মতো একজন উদীয়মান মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ডকে ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ গণতন্ত্রের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৫০ সালে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়া যেখানে ছিল সুদূরপরাহত, ২০২৬ সালে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির ফলে অপরাধীরা বিদেশের মাটিতেও এখন আর নিরাপদ নয়।
হাদি হত্যা মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেছেন, মূল আসামিরা রিমান্ডে মুখ খুললে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে নির্দেশদাতা বলা হলেও বাদীপক্ষ এতে নারাজি দিয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাঘববোয়াল জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লাসহ বেশ কয়েকজনের নাম। অভিযোগ উঠেছে, এই মিশন বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এখন দাবি উঠেছে, এই ‘মাস্টারমাইন্ড’রা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পার হতে না পারে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ-এর তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কেবল সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এর পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সল্টলেকের সদর দপ্তরে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সুত্র: ১. স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিশিয়াল ব্রিফিং (১০ মার্চ ২০২৬)।
২. পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (STF) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক ইতিহাস (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |