| বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬: অর্থায়ন উৎস এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-02-2026 ইং
  • 1026563 বার পঠিত
ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬: অর্থায়ন উৎস এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
ছবির ক্যাপশন: ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬: অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কৌশলে সরকারের ‘মাস্টার প্ল্যান’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নতুন সরকারের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ থেকে ১৪টি উপজেলায় পাইলট ভিত্তিতে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

অর্থায়নের উৎস: টাকা ছাপিয়ে নয়, বাজেট থেকেই বরাদ্দ

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—এই বিশাল প্রকল্পের অর্থ আসবে কোথা থেকে? অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থায়নে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে:

  • বাজেট বরাদ্দ: পাইলট প্রজেক্টের জন্য প্রাথমিক ২ কোটি ১১ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • অপ্রত্যাশিত খাত: অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেটের ‘অপ্রত্যাশিত খাত’ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রয়েছে, যেখান থেকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করা হবে।

  • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, নতুন টাকা ছাপিয়ে নয় বরং প্রচলিত রাজস্ব ও বাজেট থেকেই অর্থের যোগান দেওয়া হচ্ছে যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পাইলট প্রকল্পের রূপরেখা ও সুবিধাভোগী

প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

  • ভাতার পরিমাণ: নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি সহায়তা পাবে।

  • নারী ক্ষমতায়ন: কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে, যাতে নারীর আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

  • ডিজিটাল স্বচ্ছতা: সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাবে (G2P পদ্ধতি), ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।


ফ্যামিলি কার্ড নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাবেন যে ৭ শ্রেণি

নির্বাচন প্রক্রিয়া হিসেবে সরকারের ‘খানা জরিপ’ এবং ‘সামাজিক নিরাপত্তা ডাটাবেজ’ ব্যবহার করা হবে। অগ্রাধিকার প্রাপ্ত গোষ্ঠীগুলো হলো: ১. ভূমিহীন ও গৃহহীন: যাদের নিজস্ব ভিটেমাটি বা আবাদি জমি নেই।

২. প্রতিবন্ধী ব্যক্তি: পরিবারের কোনো সদস্য শারীরিকভাবে অক্ষম হলে।

৩. নারী প্রধান পরিবার: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামী পরিত্যক্ত নারী চালিত পরিবার।

৪. অনগ্রসর জনগোষ্ঠী: হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার।

৫. অতি দরিদ্র: যাদের মাসিক আয় জীবনধারণের নূন্যতম সীমার নিচে।

৬. ফেরত আসা প্রবাসী: বিশেষ করে প্রবাসী নারী শ্রমিক যারা বর্তমানে কর্মহীন।

৭. স্কুলগামী শিশু সম্পন্ন পরিবার: দরিদ্র কিন্তু সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছেন এমন পরিবার।

কারা পাবেন না এই কার্ড? (স্মরণিকা)

নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, এসি বা গাড়ির মালিক এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি ঐতিহাসিক বাঁক

বাঙালির ইতিহাসে ১৯০০ সালের দুর্ভিক্ষ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বিপ্লব পর্যন্ত দেখা গেছে—রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টন সবসময়ই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৬ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে যে সর্বজনীন ডাটাবেজ এবং স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা একটি ‘ঐতিহাসিক সনদ’ হিসেবে দেখছেন। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তরের পথে প্রথম ধাপ।


সূত্র: ১. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

২. মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ সভার কার্যবিবরণী।

৩. ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency