সিউল | ৭ জুলাই ২০২৫:
অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রহণ করেছে এক ব্যাপক ‘খরচ কুপন’ প্রণোদনা কর্মসূচি, যার আওতায় দেশের প্রতিটি নাগরিক সরাসরি অর্থ সহায়তা পাবেন। এশিয়ার চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি এবার জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদা জাগিয়ে তুলতে চায়।
এই কর্মসূচির ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন দেশটি রাজনৈতিক সংকট ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির চাপে ভুগছে।
মোট বাজেট: ৩১.৮ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন (প্রায় ২৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
প্রথম পর্যায়: ২১ জুলাই – ১২ সেপ্টেম্বর
দ্বিতীয় পর্যায়: ২২ সেপ্টেম্বর – ৩১ অক্টোবর
নাগরিকদের সহায়তা দেওয়া হবে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড অথবা স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত গিফট ভাউচারের মাধ্যমে।
| শ্রেণি | পরিমাণ |
|---|---|
| সাধারণ নাগরিক | ১,৫০,০০০ ওন (প্রায় $১১০) |
| দরিদ্র ও একক পিতামাতার পরিবার | ৩,০০,০০০ ওন (প্রায় $২২০) |
| মৌলিক জীবনভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তি | ৪,০০,০০০ ওন (প্রায় $২৯০) |
| গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা | অতিরিক্ত ৫০,০০০ ওন ($৩৬) |
| দ্বিতীয় দফার সহায়তা (কম আয়ের ৯০%) | ১,০০,০০০ ওন (প্রায় $৭৩) |
উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিম মিন-জে, যিনি এই কর্মসূচির জন্য নিয়োজিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের প্রধান, বলেন—
“আমরা চাই, এই নগদ কুপন ব্যবস্থা যেন শুধু অর্থব্যবস্থার রক্তসঞ্চালনই না করে, দুর্বল শ্রেণির মানুষদের জন্য বাস্তব উপকারও বয়ে আনে।”
২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ কোরিয়া কারিগরি মন্দা এড়ালেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হয়।
তৃতীয় প্রান্তিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধির গতি আশানুরূপ নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা:
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিশংসন
ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে সামরিক আইন জারি
৪ জুন লি জে-মিয়ং নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন
নতুন প্রণোদনা প্যাকেজে শুধু নগদ সহায়তা নয়, ডিজিটাল ভাউচার, AI ভিত্তিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, এবং স্থানীয় শিল্প সংরক্ষণে বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ এই কর্মসূচিকে সম্ভাবনাময় বললেও কিছু গভীর ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন:
মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা
সরকারি ঋণের উচ্চ চাপ
বাজেট ঘাটতির জন্য নতুন ঋণের উপর নির্ভরতা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী:
চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি: ৪.২%
সরকারি ঋণ: মোট জিডিপির ৪৯.১% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে
বিশ্বের অন্যান্য দেশ—বিশেষ করে জাপান, চীন ও ইউরোপের কিছু দেশ—এমন ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ’ প্রয়োগে নজর রাখছে।
করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নাগরিক-ভিত্তিক নগদ সহায়তা অনেক দেশের জন্য কার্যকর মডেল হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশেও বর্তমানে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যরেখার নিচে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।
কোরিয়ার এই মডেল আমাদের জন্য একটি ভালো গবেষণামূলক উদাহরণ হতে পারে—যেখানে:
একদিকে ভোগ বাড়ানো
অন্যদিকে দরিদ্র শ্রেণির জন্য সরাসরি সহায়তা
এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সমন্বিত নীতি প্রণয়নের জন্য উদাহরণস্বরূপ হতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |