ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এই বৈঠকগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, এবং সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে গভীর আলোচনা এবং সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ৪ এপ্রিল, শুক্রবার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, অধ্যাপক ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অধ্যাপক ইউনূস এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বৈঠকটি বিশেষভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের উন্নতি সাধনের পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান নিশ্চিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভুটান এবং বাংলাদেশ একে অপরকে পরিপূরক দেশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, যেখানে ভুটানের পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একে অপরকে সমর্থন করে। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকে পরিচালিত করবে।
অধ্যাপক ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া। ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং এই বৈঠকটি উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ ছিল।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং পরিবহন, সংযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষভাবে, দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি এবং কাস্টমস সুবিধাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যাতে আরো সুসংহত সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও অধ্যাপক ইউনূসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামাজিক উন্নয়ন এবং মানব নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকক শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, এবং বৈঠকে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আরো শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী।
বৈঠকে থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন এবং মানব নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ভারাওয়াত সিল্পা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাইও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা একে অপরের দেশের উন্নয়ন অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং একে অপরকে সহায়তা প্রদান করার বিষয়ে একমত হন। এই সাক্ষাৎ ও বৈঠকগুলোর মাধ্যমে, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অধ্যাপক ইউনূসের সাথে এইসব বৈঠকগুলি বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করেছে, এবং এসব দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি কেবল দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই বৈঠকগুলো শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য একটি কৃতিত্ব নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ। এসব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় দিগন্ত খুলে দিতে সহায়ক হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |