প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান এবং আগামীর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা তারেক রহমান। নির্বাচনের পর দুই শীর্ষ নেতার এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী ঐক্য থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপট—বাংলার রাজনীতিতে এই ধরনের কৌশলগত মিত্রতা সবসময়ই ভাগ্যনির্ধারক হিসেবে কাজ করেছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারেক রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে ঠিক ৭টায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে পৌঁছান। তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত আছেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তারেক রহমানকে কী দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের রসিকতা করে বলেন, “আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেখি তারেক রহমান কী পছন্দ করেন। তিনি যা পছন্দ করেন, তাই দিয়েই আপ্যায়নের চেষ্টা করব। তার পছন্দের তালিকার মধ্যেই আমরা থাকব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আপ্যায়ন কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আগামীর সুদৃঢ় সম্পর্কের এক গভীর ইঙ্গিত।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় দলগুলোর মধ্যকার কৌশলগত ঐক্য সবসময়ই ক্ষমতার পটপরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯১৬ সালের ‘লখনউ চুক্তি’ ছিল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যকার এক ঐতিহাসিক আপ্যায়ন ও ঐক্যের উদাহরণ, যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।
১৯৭০ - ১৯৭১: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির অবিসংবাদিত বিজয় এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলন ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দিয়েছিল।
২০০১ - ২০২৪: ২০০১ সালের চার দলীয় জোট সরকার থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি ও জামায়াতের রাজপথের সমন্বয় ছিল দৃশ্যমান। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠনে এই দুই দলের শীর্ষ নেতার বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জামায়াত আমিরের পর তারেক রহমানের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই দলটি ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩.০৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠনের সংকেত দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের নিয়ে তাদের মোট আসন সংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন বিজয় দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। জামায়াতে ইসলামীও রেকর্ড ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে।
১৯০০ সালের সেই উত্তাল সংগ্রাম থেকে ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশ—রাজনীতি এখন আর কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এক গঠনমূলক ঐক্যের পথে। বসুন্ধরার এই সান্ধ্যকালীন বৈঠক কেবল দুই নেতার মিলনমেলা নয়, বরং আগামীর স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি নীল নকশাও হতে পারে।
সূত্র: বিএনপি ও জামায়াত মিডিয়া সেল, বাসস, রাজনৈতিক আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬) এবং নিজস্ব প্রতিনিধি।
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনে তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠকের খবরের সাথে ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ঐক্যের একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র তৈরি করা হয়েছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের সাথে সম্ভাব্য বৈঠকের তথ্যটিও এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |