| বঙ্গাব্দ

যাত্রাবাড়ীতে চরমোনাই পীরের হুঙ্কার: ‘ক্ষমতালোভীদের রঙিন স্বপ্ন সফল হবে না, ধোঁকাবাজদের বর্জন করুন’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-01-2026 ইং
  • 1503382 বার পঠিত
যাত্রাবাড়ীতে চরমোনাই পীরের হুঙ্কার: ‘ক্ষমতালোভীদের রঙিন স্বপ্ন সফল হবে না, ধোঁকাবাজদের বর্জন করুন’
ছবির ক্যাপশন: চরমোনাই পীরে

যাত্রাবাড়ীতে চরমোনাই পীর: ‘বন্ধুর সঙ্গে যারা ধোঁকাবাজি করে, দেশ তাদের কাছে নিরাপদ নয়’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: "যারা নিজ বন্ধুর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে পারে, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের কাছে কখনোই নিরাপদ নয়। অতীতের সরকারগুলো হাজারো মায়ের বুক খালি করেছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে।" শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলার পাড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এসব কথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকা

২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শক্তি প্রদর্শনের এই সমাবেশে চরমোনাই পীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করেন। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন অনেক রাজনৈতিক দল নিজেদের ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নামতে সাহস পায়নি, তখন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। আমরা কেবল ক্ষমতার রঙিন স্বপ্ন দেখার জন্য রাজনীতি করি না, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে থাকি।”

রাজনৈতিক জোট ও ‘দরজা খোলা’ প্রসঙ্গ

বক্তব্যে তিনি বিএনপির সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “কিছু দিন আগেও বিএনপির একজন বড় নেতা ফোন করে বলেছেন—হযরত দরজা খোলা। কিন্তু আমরা কেবল দরজা খোলার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করিনি। যারা ইতিপূর্বে পরীক্ষিত হয়েছেন, তাদের নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার আর কিছু নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ২০২৬ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের একক বা স্বতন্ত্র অবস্থানের একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চেতনার এক অপূর্ব সমন্বয় ছিল। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ভাষণের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি বাঁকেই এ দেশের মানুষ বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ধারারই একটি আধুনিক সংস্করণ। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চরমোনাই পীর সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনেই ‘ধোঁকাবাজির রাজনীতি’ বর্জনের ডাক দিলেন।

২০২৬-এর নির্বাচনী আমেজ ও বিশ্লেষণ

নির্বাচনী সমাবেশে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনো চাটুকার বা অর্থ পাচারকারী দলকে ভোট না দেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে। যাত্রাবাড়ীর এই সমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি সেই শক্তিরই জানান দেয়।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস (BSS), এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচার সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency