| বঙ্গাব্দ

১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ২০২৬: ২২০ আসনে জামায়াত, ৩০ আসনে এনসিপি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 1556250 বার পঠিত
১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ২০২৬: ২২০ আসনে জামায়াত, ৩০ আসনে এনসিপি
ছবির ক্যাপশন: ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, ২২০ আসনে লড়বে জামায়াত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) চূড়ান্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা। জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২২০টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাকি ৮০টি আসন জোটের অন্য শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

আসন বণ্টনের সমীকরণ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মঙ্গলবার বিকেলে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সূত্র জানায়, শুরুতে জামায়াত ১৭৯টি আসনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিল এবং ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন জোটের এই 'এক বাক্স নীতি' (One Box Policy) থেকে সরে দাঁড়িয়ে ২৬৮ আসনে এককভাবে লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়ায় জোটে নতুন করে আসন বণ্টন করা হয়।

সর্বশেষ সমঝোতা অনুযায়ী:

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ২২০টি আসন।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০টি আসন।

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২৩টি আসন।

  • খেলাফত মজলিস: ১৩টি আসন (প্রাথমিক ১২টি আসন নিশ্চিত হলেও পরে একটি আসন সমন্বয় করা হয়েছে)।

  • অন্যান্য শরিক (এলডিপি, এবি পার্টি, বিডিপি ও নেজামে ইসলাম): বাকি ১৪টি আসন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বণ্টন করা হয়েছে।

জোট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০ আসনের এই প্রার্থী তালিকা ও চূড়ান্ত বণ্টননামা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিবর্তন: ১৯০০ থেকে ২০২৬ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির বিবর্তনে ধর্মীয় ও আদর্শিক দলগুলোর এই জোটবদ্ধ লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • ১৯০৬-১৯৪৬: ১৯০৬ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে আদর্শিক মেরুকরণ শুরু হয়। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিশাল জয়ই পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে।

  • ১৯৭০-এর নির্বাচন: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জয় হয়। তবে সে সময়ও ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো নির্দিষ্ট আসনে শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছিল।

  • ১৯৮৬-২০০৮: আশির দশকে জাতীয় পার্টির উত্থান এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালে চার দলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ধর্মীয় দলগুলো ক্ষমতার অন্যতম অংশীদার হয়ে ওঠে।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লবের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশেষ পরিবর্তন আসে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপি ও এবি পার্টির মতো নতুন শক্তির সংযোজন এই জোটকে একটি আধুনিক ও ধর্মীয় আদর্শের সংমিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব গুগল এনালাইসিস এবং বর্তমান মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে ২২০টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের মতে, "এই জোটের আসন সমঝোতা মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠের প্রধান একটি শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণের শেষ সুযোগ।" বিশেষ করে এনসিপি-কে ৩০টি আসন দেওয়া বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। ২. ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ২০২৬ আর্কাইভ। ৩. রাজনৈতিক ইতিহাসের দলিল: উইকিপিডিয়া ও বিএসএস নিউজ রিপোর্ট।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency