রাজনীতির ছয় দশক ও আগামীর স্বপ্ন: জন্মদিনে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রাজ্ঞ ও সংগ্রামমুখর নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি নিজের ৭৮তম জন্মদিনে দেশবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি কেবল নিজের কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেননি, বরং গত ছয় দশকের রাজনৈতিক বিবর্তন, উন্নয়ন এবং আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। ১৯০০ সালের গোড়ালি থেকে শুরু হওয়া এ অঞ্চলের অধিকার আদায়ের যে লড়াই, তার এক আধুনিক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে তাঁর বক্তব্যে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালে, যখন এই জনপদ ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে পাকিস্তান আমলের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৬০ বছর আগে যখন তিনি রাজনীতি শুরু করেন, তখন তাঁর দুই চোখে ছিল সমাজ বদলানোর স্বপ্ন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক বাঁক তাঁকে আন্দোলিত করেছে। ১৯৮৮ সালে তিনি পুনরায় সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন, যা ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক উত্তাল সময়।
বিএনপি মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬—এই দুই মেয়াদে ঠাকুরগাঁও ও দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
কৃষি বিপ্লব: ২০০৫ সালের মার্চ মাসে 'বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্প' উদ্বোধন করা হয়, যা ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক নেটওয়ার্কে রূপান্তর করে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
কারিগরি শিক্ষা: উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য গোবিন্দনগরে 'ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার' এবং 'ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট' স্থাপন করেন তিনি।
অবকাঠামো: গ্রামকে গ্রামের সাথে যুক্ত করতে অসংখ্য সড়ক, সেতু এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের কাজ এই সময়েই সম্পন্ন হয়।
গত ১৭ বছর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক কঠিন সময় ছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। এই সময়ে তিনি ১১ বার কারাবরণ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন যুগে পদার্পণ করেছে। ২০২৫ সালটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের বছর, আর ২০২৬ সালে এসে দেশ এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়। মির্জা ফখরুল বলেন,
"নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করিনি। আজ আমার বয়স ৭৮, কী পেয়েছি বা করতে পেরেছি তা আল্লাহ জানেন আর এ দেশের মাটি ও জনগণ জানে।"
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছেন এবং বর্তমানে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে পরিবারই ছিল তাঁর বড় শক্তি।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের তরুণেরা তাঁর সন্তানসম। তিনি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি সন্তান যেন 'দুধে ভাতে' থাকে।
১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল 'অধিকার আদায়'। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এই ইতিহাসেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়নের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রামাণ্য দলিল। ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁর এই স্মৃতিচারণ ও আগামী দিনের স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সূত্র: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ঠাকুরগাঁও জেলা উন্নয়ন প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |