প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
হবিগঞ্জ: আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী এবার রাজনীতির ময়দানে নতুন পরিচয়ে হাজির হয়েছেন। আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসন থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি তার মনোনয়নপত্র ও হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামায় নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার সম্পদের হিসাব এবং পারিবারিক নির্ভরশীলদের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাহেরীর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা। অথচ অবাক করার বিষয় হলো, তার হলফনামায় নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদের হদিস নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামে কোনো নগদ অর্থ কিংবা অলংকারও দেখানো হয়নি। নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ থাকলেও স্ত্রীর আলমারি একদম শূন্য বলে উল্লেখ করেছেন এই আলোচিত বক্তা।
তাহেরী তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদের কথা উল্লেখ করেছেন। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
নগদ টাকা: ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা।
ব্যাংক জমা: ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা।
স্বর্ণ: ৩১ ভরি (মূল্য ৬ লাখ টাকা)।
আসবাবপত্র: ৫ লাখ টাকা।
বার্ষিক আয়: ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার এবং কৃষি থেকে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা।
অন্যদিকে, ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা মূল্যের কৃষিজমি রয়েছে তার নামে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকারও বেশি। তবে হলফনামায় তার বিরুদ্ধে ৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রতিটিই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়ের করা হয়েছে।
বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় বক্তা বা পীর-মাশায়েখদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইতিহাস দীর্ঘ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চেতনা সমান্তরালভাবে চলেছে।
১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিকবার বাঁকবদল হয়েছে। ১৯৭৭-এর গণভোট, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাই সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকে পুনর্নির্মাণ করেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৪-এর বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কারের অগ্নিপরীক্ষা। হবিগঞ্জ-৪ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাহেরীর মতো আলোচিত বক্তার অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার ডামাডোলের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য:
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী: "আমি জনগণের সেবা করতে চাই। আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক): "গণতন্ত্র রক্ষায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।"
ডা. মো. রফিকুল ইসলাম (বিএনপি নেতা): "গণতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত নিরাপদ নয়, পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে।"
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সুবাদে এই আসনে প্রার্থী হওয়া তাহেরী মাঠের লড়াইয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে হলফনামার সম্পদের এই ‘বিচিত্র’ তথ্য ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা (হবিগঞ্জ-৪ আসন, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর আর্কাইভ (তাহেরীর মামলা ও রাজনৈতিক সংবাদ ২০২৪-২০২৫)। ৩. উইকিপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন (বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাস ও ২০২৬ নির্বাচনের রোডম্যাপ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |