সংকটে দেশ ছেড়ে পালায়নি জামায়াতের কেউ: নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সাহসী বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
সূত্র: কালের কণ্ঠ (অনলাইন সংস্করণ)
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রুকন সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক দৃপ্ত ভাষণে বলেন,
“জাতির সংকটকালে কখনোই আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি। ইতিহাস তার সাক্ষী।”
তিনি বলেন, জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল, নিপীড়ন বা নির্যাতনের কোনো অভিযোগ নেই, বরং দল হিসেবে তারা সব সময় শান্তি ও সহাবস্থানের পক্ষে থেকেছে।
তিনি সরাসরি বলেন,
“ইসলাম নারীদের যে সম্মান দিয়েছে তা অন্য কোনো ধর্মে নেই। নারীরা চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করবে। জামায়াতে ইসলামী নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।”
আমির স্পষ্ট জানান,
“জামায়াত কোনো অলীক সমাজ কল্পনা করে না। আমরা বাস্তব স্বপ্ন দেখি। দেশ গড়ার, সমাজ বদলানোর, কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি বলেন,
“আসন্ন নির্বাচনে আমরা দলকে গোছাচ্ছি। সম্পদ, পরিশ্রম, সংগঠন, ধৈর্য ও সাহসিকতার মাধ্যমে আমরা নির্বাচনকালীন বৈতরণী পেরিয়ে যাব।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানপন্থী অবস্থানের কারণে জনমনে বিতর্কিত ছিল।
১৯৭৫ সালের পর সামরিক সরকারগুলো জামায়াতের কার্যক্রমে ছাড় দিয়েছিল এবং ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরায় চালুর পর দলটি সংসদে ফিরে আসে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি একাধিকবার নিষিদ্ধ বা সীমিত হয়, বিশেষ করে ICT ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার সময়।
২০২৪ সালের 'জুলাই বিপ্লব'-এর পর, যেখানে ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নেয়, সেখানে জামায়াত আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসে—বিশেষত ঢাকা মহানগরের সাম্প্রতিক র্যালি এবং রুকন সম্মেলনের মাধ্যমে।
এই সময়, দেশের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক মতবাদের দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এসেছে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য এই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ছিল শুধু দলীয় আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান উপস্থাপনের প্রচেষ্টা। তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতকে সামাজিক দায়িত্বশীল, নারীবান্ধব ও সাংগঠনিকভাবে পরিণত দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেন।
এই বক্তব্য নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক মাঠের মেরুকরণ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিতবাহী। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, জামায়াতের অতীত কর্মকাণ্ড এখনো অনেকের স্মৃতিতে তীব্র, আর তারুণ্যের নতুন ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করতে দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
সূত্র:
কালের কণ্ঠ, ২৫ জুলাই ২০২৫ (প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ)
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |