| বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 2015662 বার পঠিত
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন: প্রিয় বাংলাদেশ গড়ার নতুন এক ‘মাস্টারপ্ল্যান’

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর এক নবদিগন্তের সূচনা করল। দীর্ঘ ১৭ বছর ৯ মাস (৬৩১৪ দিন) নির্বাসন জীবন কাটিয়ে রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর রাজধানীর পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট)-তে আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি কেবল আবেগের কথাই বলেননি, বরং একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা ‘প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন।

সংবর্ধনা মঞ্চে সাদাসিধে নেতৃত্ব

বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুপুর ৪টার দিকে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। মঞ্চে নিজের জন্য রাখা বিশেষ রাজকীয় চেয়ারটি সরিয়ে দিয়ে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে তিনি নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেন। ১৭ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর রাজনৈতিক অর্থবহ বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন।

তিনি বলেন, “মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘I have a dream’, আর আমি আমার দেশের মানুষের জন্য বলতে চাই— I have a plan. সারা বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতায় আমরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই পরিকল্পনা কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও সংস্কারের ৭৫ বছর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল, তখন থেকেই প্রতিটি গণজাগরণ হয়েছে শোষণের বিরুদ্ধে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ৬ দফা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল মূল শক্তি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে এক সুতোয় গেঁথেছেন তারেক রহমান। তিনি স্মরণ করেন একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের শহীদদের। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাদির রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে হবে।” ১৯৫০ সালে যেখানে লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, ২০২৫ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর।

আধিপত্যবাদ ও উসকানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা

বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ধীর ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচররা এখনো লিপ্ত রয়েছে নানা ষড়যন্ত্রে। যে কোনো মূল্যে আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো উসকানির মুখে মেজাজ হারানো যাবে না।”

তিনি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মেলবন্ধন এবং মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও হিন্দুসহ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের ওপর জোর দেন। তার মতে, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ মানে এমন এক দেশ যেখানে একজন নারী বা শিশু দিন-রাত যে কোনো সময় নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবে।

তরুণ প্রজন্মের হাতে আগামীর নেতৃত্ব

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের চার কোটি তরুণ ও পাঁচ কোটি শিশুকে আগামীর শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মকেই আগামীর নেতৃত্ব দিতে হবে। এই দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত রাষ্ট্রনায়কোচিত ও সময়োপযোগী, যা ২০২৫ সালের ভঙ্গুর রাজনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম।

মঞ্চে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে এক নতুন ঐক্যের ডাক দিয়েছে।


বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৫ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খেলেও ২০২৫-এর এই রাজসিক প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, জনগণের ম্যান্ডেটই শেষ কথা।


সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণ (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বিএনপি মিডিয়া সেল ও সংবর্ধনা কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ঐতিহাসিক দলিল (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency