শিক্ষা খাতে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা ও দক্ষ জনশক্তি গঠনের নতুন ভিশন: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর শিক্ষানীতি ও বিএনপির পরিকল্পনা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতি ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট নীতি-গবেষক ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বিএনপি ভবিষ্যতে শিক্ষার ওপর কোনো প্রকার ভ্যাট আরোপ করবে না, বরং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়তে মানুষের ওপর বিনিয়োগ বাড়াবে। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর গুলশানে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ১৯৫০ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের এআই বিপ্লবের এই দীর্ঘ সময়কালে বাংলাদেশের শিক্ষানীতির বিবর্তন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে এই ঘোষণার গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৫০-এর দশকে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা অধিকারের আন্দোলন ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী শিক্ষানীতির ওপর জোর দেন এবং দেশের গণশিক্ষা আন্দোলনে নতুন গতিবেগ সঞ্চার করেন। তার সময়েই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন শুরু হয়। ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারী শাসনামলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষার প্রসারে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে বিএনপির শাসনকাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯২ সালে বিএনপির শাসনামলেই দেশে প্রথমবারের মতো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাস হয় এবং প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ড. মাহদী আমিন তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপির আমলে শিক্ষাকে গণমুখী করতে উপবৃত্তি প্রকল্প এবং নারী শিক্ষার প্রসারে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা আর কার্যকর নয়। ইয়থ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের আলোচনা সভায় ড. মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, বিএনপির লক্ষ্য হলো নৈতিক, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানুষ গড়ে তোলা। তিনি ঘোষণা করেন, "ভবিষ্যতে বিএনপি শিক্ষার ওপর কোনো ভ্যাট বসাবে না। আমাদের নীতি হবে—ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট, যাতে শিক্ষকরা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন।"
আলোচনা সভায় ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "দেশের অর্থনীতি এগোলেও শিক্ষাব্যবস্থা সেভাবে এগোয়নি।" অন্যদিকে শিখো’র প্রধান নির্বাহী শাহির চৌধুরী তথ্য দেন যে, বাংলাদেশে ৪ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১.৬–১.৭ শতাংশ, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। কলাম লেখক ও ব্যাংকার শাফকাত রাব্বী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পর্কে সঠিক প্রশিক্ষণ নিতে পারলে এটি চাকরির বাজার আরও বড় করবে।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের এই সুদীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে। তবে ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই ‘মানুষের ওপর বিনিয়োগ’ এবং ‘ভ্যাটমুক্ত শিক্ষা’র পরিকল্পনা দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন (শিক্ষা ও জাতীয় রাজনীতি বিষয়ক আর্কাইভ)। ২. ইয়থ কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (সেমিনার কার্যবিবরণী ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের শিক্ষানীতির ইতিহাস ও পরিসংখ্যান (বাংলাপিডিয়া ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |