প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক নতুন সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী তাদের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে এই শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, মোবারক হোসাইন, মো. আব্দুর রব এবং আ ফ ম আব্দুস সাত্তার। এছাড়াও কমিটির বিশেষত্ব হলো এতে সাবেক আমলা ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের আধিক্য। সাবেক সিনিয়র সচিব মু. সফিউল্লাহ, সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মোস্তফা এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সফিকুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তকরণ দলটির নির্বাচনী কৌশল ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দেয়।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের স্বাধিকার চেতনার জন্ম। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে এদেশের গণতন্ত্র। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতনের পর আশা জেগেছিল এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের।
১৯৯১-২০২৪: দীর্ঘ তিন দশকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের (জানুয়ারি) একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনগুলো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নেয়। ২০২৫ সাল জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশন ও সংবিধান সংস্কার। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক দল এখন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জামায়াতের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এটিই প্রমাণ করে যে তারা এককভাবে বা জোটে থেকে একটি বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। বিশেষ করে সাবেক আমলা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের কমিটিতে রাখা হয়েছে নির্বাচনী আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক সমন্বয় সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য।
২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই জনপদের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। ভোটাররা আশা করছেন, অতীতের ‘পাতানো’ নির্বাচনের ছায়া ডিঙিয়ে এবারের ভোট হবে সত্যিকারের জনমতের প্রতিফলন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)।
২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিশেষ বুলেটিন।
৩. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |