প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে 'নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ' হিসেবে বর্ণনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য প্রজন্ম এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।"
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক মন্তব্য করেন। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
ড. ইউনূস আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট দুটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, "নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য।"
গণভোটের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর রূপরেখা পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের সচেতন করার ওপর জোর দেন। তিনি ইউএনওদের নির্দেশ দেন, "ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন—হ্যাঁ-তে দেবেন নাকি না-তে ভোট দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।"
তিনি ইউএনওদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, "আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।" তিনি আরও বলেন, ইউএনওরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।
অতীতে হওয়া নির্বাচনগুলোর উদাহরণ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।" এই কঠোর মন্তব্য দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অনেক নির্বাচনই বিতর্কমুক্ত ছিল না। বিশেষ করে ২০০০-পরবর্তী সময়ে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সেই হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের তাগিদ তৈরি করে। ড. ইউনূসের এই মন্তব্য সেই প্রেক্ষাপটকেই তুলে ধরলো।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।" তিনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, "ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।"
তিনি ইউএনওদের নির্বাচনের আগেই নিম্নলিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন:
প্রতিটি পোলিং স্টেশন পরিদর্শন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়।
সব ধরনের প্রস্তুতি মূল্যায়ন।
অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা।
যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৃজনশীলতা বজায় রাখা।
বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
শিগগিরই নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, "নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।"
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ইউএনওদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের ব্রিফিং।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |