| বঙ্গাব্দ

মনিরামপুরে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর হুমকি, শিক্ষক সাইদুল বিতর্কে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 4527284 বার পঠিত
মনিরামপুরে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর হুমকি, শিক্ষক সাইদুল বিতর্কে
ছবির ক্যাপশন: মনিরামপুরে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর হুমকি

ChatGPT said:

মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাইভেটচাপ ও ফেল করানোর হুমকি!

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ২৭ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: মনিরামপুর, যশোর

মনিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাইদুল ইসলামকে নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রকাশ্যে বলেন—

“আমার কাছে প্রাইভেট না পড়লে কেউ পাশ করবে না, পরীক্ষার সময় চোখে সরষে ফুল দেখবে।”

এই মন্তব্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা। অভিভাবকরাও পড়েছেন অস্থিরতায়।

প্রাইভেট না পড়লেই পরীক্ষায় ফেল?

সাইদুল ইসলাম নবম ও দশম শ্রেণিতে পদার্থ ও রসায়ন পড়ান। অভিযোগ,

  • তিনি যেসব শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়ে না, তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দেন

  • তাদের মানসিকভাবে হেয় ও অপমান করেন ক্লাসে

  • পরীক্ষার খাতা দেখতে চাইলে অশোভন আচরণ করেন

এক অভিভাবক বলেন—

“আমার মেয়ে সব বিষয়ে ভালো করলেও পদার্থ ও রসায়নে ফেল করেছে। বাধ্য হয়ে তাকে স্যারের কাছে প্রাইভেটে দিচ্ছি।”

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

২০২৪ সালের ২ নভেম্বর অন্তত ৩৪ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। কিন্তু আজও অভিযোগের সুরাহা হয়নি।

এক শিক্ষার্থী জানায়—

“স্যার আমাদের ভয় দেখান, ‘আমার কাছে না পড়লে জীবনে পাশ করতে পারবে না।’”

এইচএসসি মানের প্রশ্ন নবম শ্রেণিতে?

ঢাকুরিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক শাহিন আলম এবং মনিরামপুর ফাজিল মাদরাসার অধ্যাপক সঞ্জয় সরকার জানান,

  • সাইদুল স্যার এইচএসসি লেভেলের প্রশ্ন দিয়েছিলেন নবম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায়

  • একজন সহকারী অধ্যাপককে তিনি বলেছিলেন, “তুমি বেসরকারি শিক্ষক, সরকারি শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার সাহস কীভাবে হয়?”

স্থানীয় বিশিষ্টজনরা যা বলছেন

  • অধ্যাপক বাবুল আকতার (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব): “সাইদুল স্যারের আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি তৈরি হচ্ছে।”

  • প্রধান শিক্ষক এম এম তসির উদ্দিন: “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

  • উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রশীদ: “এই আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

  • উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না: “এ ঘটনায় খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান: “শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

১৯৫০–২০২৫: রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক কর্তৃত্বের কালচারের ধারাবাহিকতা?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ১৯৫০ সাল থেকেই ‘শিক্ষক মানেই অভিভাবকতুল্য অথচ জবাবদিহিমুক্ত’ এই মানসিকতা চালু ছিল। তবে ২০০০-এর পর ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা অধিকার আইন এবং অভিভাবক সচেতনতার কারণে এ চিত্র বদলাতে শুরু করে।

তবুও বহু প্রতিষ্ঠানে আজও ‘প্রাইভেট না পড়লে ফেল’ সংস্কৃতি বিরাজমান— যা সরাসরি শিক্ষা নীতিমালা ও শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যবিরোধী। শিক্ষক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগটি তারই একটি নজির।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency