ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ: মৃত্যু আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
ডেঙ্গু ভাইরাস, যেটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই এর ভয়াবহ প্রকোপে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আর লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। যদিও শীতের শুরুতে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমে যায়, তবে গত বছরের মতো এবারও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বর্ষার পর শীতের আভাস এলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে না, বরং এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে এবং মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন, তার আগের দিনও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৩৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলিতে ১,১৩৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা সিটির উত্তর ও দক্ষিণ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং অন্যান্য বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এডিস মশার উপদ্রব কমানোর বিকল্প নেই জানিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “আমরা এখনো সঠিকভাবে মশা নির্মূল করতে পারিনি। এর ফলে ডেঙ্গু রোগে মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না, অথচ ঠেকানো সম্ভব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “ডেঙ্গুকে মৌসুমি রোগ হিসেবে মনে করে হালকা ভাবে নেওয়ার সময় এখন শেষ।”
তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলোকে ধ্বংস করতে হবে, না হলে এর বিস্তার বন্ধ করা যাবে না।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১,১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ব্যাপকভাবে রোগীর চাপ রয়েছে। তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১,১৯৯ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, এর মাধ্যমে চলতি বছর পর্যন্ত মোট ৮১,৪৪২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এছাড়া, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪,৯৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনকতার ইঙ্গিত দেয়। এই চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, ডেঙ্গুর প্রভাব এখন প্রায় পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে, তবে অবিলম্বে মশাবাহিত রোগগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জনগণেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি যাতে তারা নিজেদের এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে পারে।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা, যথাযথ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা সহ আরও বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে।
এখনো সময় আছে, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে মশাবাহিত রোগের নিয়ন্ত্রণে আরও শুদ্ধতা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনগণের সহায়তা প্রয়োজন।
এটি একটি জাতীয় সমস্যা, যা শুধু সরকার বা স্বাস্থ্য বিভাগের নয়, সকল নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |