প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মিলনমেলা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে, আনন্দ–উৎসবের আবহে উদযাপনের জন্য বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ডাকবাংলো হলে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন—
“বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতির প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়তে চান।
একই দিনে ধোবাউড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের যৌথ সভায় প্রিন্স বলেন—
আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
একাধিক প্রার্থী থাকলেও, দলের মনোনীত প্রার্থীই চূড়ান্ত; বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে দেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না করে।
তারেক রহমানকে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, তাঁর সিদ্ধান্তই বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে শিরোধার্য।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় উৎসব ও রাজনৈতিক বার্তা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত:
১৯৫০–১৯৬০ দশক: পাকিস্তান আমলে পূজা বা ঈদের সময় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে ঘনিষ্ঠ হতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকত।
১৯৭১ স্বাধীনতার পর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুবার হিন্দু সম্প্রদায়কে সমান নাগরিক অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে স্থান পায়।
১৯৯০-এর পর: সামরিক শাসনের পতন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক দলগুলো পূজা বা রমজান–উপলক্ষে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানাতে থাকে।
২০০০-এর দশকে: বড় রাজনৈতিক দলগুলো পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে।
২০১০–২০২০ দশকে: বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক ঘটনায় সমালোচনার মুখে উভয় প্রধান দল (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) পূজা উদযাপনে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়।
২০২৪–২০২৫: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলও পূজা উদযাপনে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে।
প্রিন্সের এই বক্তব্য শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আশ্বাস নয়, বরং সমগ্র জাতির কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা—বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিতে চায়। এটি একইসঙ্গে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যাতে সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়।
যুগান্তর (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) – ধোবাউড়ায় বিএনপি নেতা প্রিন্সের পূজা উদযাপন সংক্রান্ত বক্তব্য।
বাংলাদেশ সংবিধান, ১৯৭২ – চার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা।
বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (২০২৩–২০২৪) – পূজা উপলক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের সম্প্রীতি বার্তা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |