বরগুনা, ১৬ আগস্ট ২০২৫ — আওয়ামী সরকার পতনের পর সুযোগ কাজে লাগিয়ে মো. সরোয়ার (৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে কোটি টাকার বাণিজ্য ও বদলি-বাণিজ্যের সাথে জড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরোয়ার বরগুনা এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগসহ একাধিক সরকারি দপ্তরে নিজেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে—
কর্মকর্তাদের বদলি করে দিয়েছেন মোটা অঙ্কের বিনিময়ে।
এলজিইডি ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে জনস্বাস্থ্য বিভাগের তিনটি কাজ নিচ্ছেন ভাড়াকৃত লাইসেন্সে, যার পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি গভীর নলকূপ ও একটি লেট্রিন প্রকল্প।
স্থানীয়রা জানান, সরোয়ার বিভিন্ন সময় সোহাগ, স্বপন ও সুমন নামে পরিচয় দিয়ে দপ্তরগুলোতে যাতায়াত করেছেন।
সরোয়ার চান্দখালী কদভানু মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় ২০২২ সালের মার্চে বেতাগী থানায় মামলা (নং-১১) হয়।
তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
ঘটনার পর শিক্ষা বোর্ড তাকে শিক্ষকতা থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেয়।
বরগুনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রেজাউল করিম বলেন,
“সরোয়ার নামে এনসিপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতা নেই। আমি এনসিপির সব কেন্দ্রীয় নেতাকে চিনি। এটা শতভাগ নিশ্চিত যে সে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে। ৫ আগস্টের পর অনেক ভুয়া নেতা বেরিয়েছে, যারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে সরোয়ার জানান,
“আমি কোনো এনসিপির নেতা নই। বরগুনার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। এলাকায় সবাই আমাকে চেনে। আমি দৈনিক সকালের সময়ে লেখালেখিও করি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নামে ভুয়া নেতা ও তদবির ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বরগুনার সরোয়ারের ঘটনাটি সেই প্রবণতার সর্বশেষ উদাহরণ, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি সূত্র, বরগুনা
মামলা নং-১১, বেতাগী থানা (২০২২)
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রেজাউল করিমের মন্তব্য
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |