লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার তিন আসামি শীর্ষপদে—উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপি কমিটিতে ক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটিতে হত্যা মামলার তিন আসামিকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে—এ খবর প্রকাশের পর তৃণমূল নেতা–কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
কমিটি ঘোষিত হয় ২৬ আগস্ট (চলতি বছর)।
সভাপতি: মো. ফারুক কবিরাজ—সাইজুদ্দিন দেওয়ান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে নাম রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক: ইমাম হোসেন গাজী—জসিম উদ্দিন ব্যাপারী হত্যা মামলায় ৯ নম্বর আসামি।
সাংগঠনিক সম্পাদক: আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বর—সাইজুদ্দিন হত্যার মামলায় ৯ নম্বর আসামি।
৭ এপ্রিল চরবংশীর খাসেরহাট বাজার এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রবাসফেরত কর্মী সাইজুদ্দিন দেওয়ান (৪৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে ৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান জসিম উদ্দিন ব্যাপারী (৩৭)।
সাইজুদ্দিন হত্যা মামলায় তাঁর বড় ভাই হানিফ দেওয়ান বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও ১৬০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা করেন; ফারুক কবিরাজ প্রধান আসামি।
জসিম উদ্দিন ব্যাপারীর বাবার দায়ের করা মামলায় ইমাম হোসেন গাজী ৯ নম্বর আসামি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কমিটির প্রিসাইডিং অফিসার ছালেহ আহাম্মদ জানান, সভাপতি–সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন করে ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ মুহূর্তে সমঝোতা হওয়ায় নির্বাচন হয়নি; তিনি তিনটি পদ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “দলের একজন শীর্ষ নেতার নির্দেশে এই কমিটি করতে হয়েছে। হত্যা মামলার আসামিদের দিয়ে কমিটি—এটা দলীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক; এতে সাধারণ মানুষ বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে।”
স্থানীয় পাঁচজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হত্যা মামলার আসামিদের নেতৃত্বে আনায় উত্তর চরবংশী ও রায়পুরে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। নির্ধারিত ভোট থেকে সরে এসে সমঝোতা কমিটি করার বিষয়টি কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে নেননি—দুটি কারণেই ক্ষোভ বাড়ছে।
ফারুক কবিরাজ: “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আমাকে আসামি করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় উভয় পক্ষের সমঝোতা হয়ে গেছে।”
ইমাম হোসেন গাজী: “বিএনপিকে দুর্বল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে; ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বর: “প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক অবস্থান ধ্বংস করতে আমাকে মামলায় জড়িয়েছে; খুনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জে এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহতের দুটি মামলায় সমঝোতা হয়েছে বলে শুনেছি—এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।”
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, “দুটি খুনের মামলার চার্জশিট শিগগিরই দেওয়া হবে। খুনের মামলা স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসা করার সুযোগ নেই—আদালতই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।”
৭ এপ্রিল: খাসেরহাট বাজার এলাকায় সংঘর্ষ; সাইজুদ্দিন নিহত, পরে জসিম মারা যান।
৭–১৪ এপ্রিল: দুই পৃথক হত্যা মামলা রায়পুর থানায় দায়ের।
২৬ আগস্ট: উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সমঝোতা কমিটি ঘোষণা—হত্যা মামলার আসামি তিনজন শীর্ষ পদে।
বর্তমান অবস্থা: পুলিশ বলছে চার্জশিট শিগগির, আদালতের রায় সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ।
১) দলের ভাবমূর্তি ও নৈতিক ঝুঁকি: বিচারাধীন হত্যা মামলার আসামিদের শীর্ষপদে বসানো—আভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে তৃণমূলের বিশ্বাস–আস্থার সংকট বাড়তে পারে।
২) সংগঠনিক প্রক্রিয়ার ঘাটতি: মনোনয়ন জমা–পরবর্তী ভোট বাতিল করে সমঝোতা—এটি প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নষ্ট করে। এমন নজির ভবিষ্যৎ ইউনিটগুলোতে দ্বন্দ্ব ও বিভাজন বাড়াতে পারে।
৩) আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক বার্তা: পুলিশ নিজেই বলছে, খুনের মামলা আপসযোগ্য নয়—তাই ‘সমঝোতার’ রাজনৈতিক বার্তা আইনি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চার্জশিট–বিচার চলাকালে বিতর্কিত নেতৃত্ব দলীয় ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদকের নিজস্ব যোগাযোগ—উপজেলা/ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বয়ান।
রায়পুর থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ আলাপের উদ্ধৃতি (ব্যবহারকারীর প্রদত্ত তথ্যভিত্তিক)।
মামলার এজাহার ও কমিটি ঘোষণার তারিখ–নামসমূহ—স্থানীয় দলীয় নথি ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ (ব্যবহারকারীর প্রদানকৃত তথ্যভিত্তিক)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |