আন্দোলন দমনে লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ এসেছিল শেখ হাসিনার কাছ থেকে: ট্রাইব্যুনালে সাবেক আইজিপির জবানবন্দি
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এ দেওয়া চাঞ্চল্যকর জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আন্দোলন দমনে লেথাল উইপেন (মারণাস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশ এসেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। শুধু তাই নয়, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া এবং ব্লক রেইড চালানোর সিদ্ধান্তও রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ৫০ শতাংশ ভোট আগে থেকেই ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার জন্য।
এ সময় পুলিশে “গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেট”-এর বিষয়েও জবানবন্দি দেন মামুন।
সাবেক আইজিপির বক্তব্যে উঠে আসে, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ডিবির হারুন ছিলেন বিশেষভাবে উৎসাহী।
মামুন জবানবন্দিতে বলেন, র্যাব-১ এ টিএফআই নামে একটি গোপন বন্দিশালা ছিল, আর অন্যান্য ইউনিটেও একই ধরনের সেল পরিচালিত হতো। সরকারবিরোধী মতাদর্শী বা রাজনৈতিকভাবে “হুমকি” মনে করা ব্যক্তিদের সেখানে আটক করা হতো।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশ আসত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। কখনো সরাসরি শেখ হাসিনা, আবার কখনো তার উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী নির্দেশনা দিতেন। আয়নাঘরে আটক ও ক্রসফায়ারের মতো কাজ পরিচালনা করতেন র্যাবের এডিসি অপারেশন ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকরা।
এ বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং সত্য উন্মোচন করতে চান।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসকসহ এ পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশন আশা করছে, চলতি মাসেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১, সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (২৪ মার্চ ২০২৫)
জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য ও রিপোর্ট (২০২৪–২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |