প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নতুন বছরের শুরুতেই প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান ট্যাক্স বা শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই ঘোষণা দেন।
প্রেস সচিব জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে আগে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ, যা কমিয়ে এখন মাত্র ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত ফোনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে দেশে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপক বিস্তার ঘটবে এবং স্মার্টফোনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত সাত দশকে এই খাতে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে:
১৯৫০-এর দশক: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে টেলিযোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং মূলত ল্যান্ডফোন ও টেলিগ্রাফ নির্ভর। সাধারণ মানুষের জন্য দূরপাল্লার যোগাযোগ ছিল একটি স্বপ্ন।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর টিএন্ডটি (T&T) বোর্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা বিস্তৃত করা হয়। তবে ১৯৮৯ সালের আগে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের কোনো ধারণা ছিল না।
১৯৯০-এর দশক: ১৯৯৩ সালে হাচিসন বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল) এর মাধ্যমে দেশে প্রথম মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়। তখন একটি হ্যান্ডসেটের দাম এবং কলরেট ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
২০২৪-২০২৫: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে শুল্ক কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ২০২৫ সালের এই নতুন শুল্ক কাঠামো মূলত ডিজিটাল ডিভাইড বা প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করার একটি বড় ধাপ।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, "বাংলাদেশে বিদেশ থেকে প্রচুর ব্যবহৃত বা ইউজড মোবাইল ফোন অবৈধভাবে আনা হয়। এগুলো রিপাবলিশ করে বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স হারায়। শুল্ক কমানোর ফলে এখন বৈধ পথে ফোন আসবে, দেশে উৎপাদন বাড়বে এবং ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে আসল ফোন কিনতে পারবেন।"
নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া প্রসঙ্গে প্রেস সচিব এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশের সকল শিক্ষার্থীর হাতে সব পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ বিষয় হলো, শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে ১২৩টি পাঠ্যপুস্তকের ভুল সংশোধন করা হয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ইতিমধ্যে ৮৩ শতাংশ বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
| খাত | পূর্ববর্তী ট্যাক্স | বর্তমান ট্যাক্স (২০২৫) |
| মোবাইল ফোন আমদানি (কাস্টমস ডিউটি) | ২৫% | ১০% |
| স্থানীয় উৎপাদন (ভ্যাট/ট্যাক্স) | ১০% | ৫% |
| পাঠ্যপুস্তক বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা | - | ১০০% (১৫ জানুয়ারির মধ্যে) |
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০-এর দশকে যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে, ২০২৫ সালে এসে মোবাইল ফোনের শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই খাতটি এখন পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের পথে। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, বরং শিক্ষা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: ১. প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রেস ব্রিফিং।
২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন।
৩. বাংলাদেশের টেলিকম ও শিক্ষা খাতের ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৫০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |