| বঙ্গাব্দ

আয়নাঘর থেকে মুক্ত ব্যারিস্টার আরমান: ৮ বছরের গুমের ভয়াল অভিজ্ঞতা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-09-2025 ইং
  • 3324407 বার পঠিত
আয়নাঘর থেকে মুক্ত ব্যারিস্টার আরমান: ৮ বছরের গুমের ভয়াল অভিজ্ঞতা
ছবির ক্যাপশন: ব্যারিস্টার আরমান

আয়নাঘর থেকে ফেরা ব্যারিস্টার আরমান: ৮ বছরের বন্দিজীবন, অন্ধকার কক্ষের ভয়াল অভিজ্ঞতা

প্রতিবেদক

বিডিএস বুলবুল আহমেদ


মূল প্রতিবেদন

২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)-কে তুলে নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ আট বছর তিনি ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে ছিলেন। সেখানে জীবনের প্রতিটি দিন তার কাছে ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।

আয়নাঘরের অন্ধকার দিনগুলো

আরমান বলেন, “আয়নাঘরের সময়টা মৃত্যুর থেকেও কঠিন মনে হয়েছে। আমাকে সবসময় হাতকড়া ও চোখ বেঁধে রাখা হতো। হাতকড়ার কারণে হাতে ঘা হয়ে রক্ত পড়ত। চোখ বাঁধা অবস্থায় থেকে চোখে ছানি পড়ে যায়। সেখানে আমাকে রাখা হয়েছিল এমন একটি ঘরে যেখানে একটি টয়লেটই ছিল একমাত্র সুবিধা। সারারাত পাশের কক্ষে অন্যদের নির্যাতনের কান্না শুনতাম।”

তিনি জানান, তাকে দুই জায়গায় বন্দি রাখা হয়েছিল—প্রথমে ১৬ দিন এক স্থানে, এরপর প্রায় আট বছর আরেক স্থানে। পরে গুম কমিশন তাকে জানিয়েছে, তাকে র‍্যাবের নিয়ন্ত্রিত টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল।

মুক্তির মুহূর্ত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের অভ্যুত্থানের পর তাকে হঠাৎ করে মুক্তি দেওয়া হয়। আরমান বলেন, “আমাকে যখন বের করা হলো, আমি ভেবেছিলাম হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর উত্তরা দিয়াবাড়িতে পরিচিতরা জানালেন যে বিপ্লব হয়ে গেছে।”

শারীরিক ও মানসিক ক্ষত

আট বছরের বন্দিজীবন তাকে চরম মানসিক ও শারীরিক আঘাত দিয়েছে। তিনি জানান, এখনও শরীরে নানা সমস্যা, চোখে ছানি, আর মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

আইনি ও মানবাধিকার দাবি

তিনি গুম কমিশনে অভিযোগ করেছেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিচার দাবি করেছেন। তার কথায়, “একটি নিরপেক্ষ বিচার প্রয়োজন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। ভিকটিম পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন বাংলাদেশে আর কাউকে আয়নাঘরে যেতে না হয়।”

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নতুন নয়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তিদের গুম বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার বলেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অনেককে তুলে নেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং সরকারের পতনের পর এসব গুমের বিষয় আবারও সামনে আসে। মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বর্তমানে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছে।

ভবিষ্যতের প্রশ্ন

ব্যারিস্টার আরমান বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র যদি সদিচ্ছা দেখায় তবে এই গুমের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব। সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পর্যায়ের সম্পৃক্তদেরও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।


সূত্র

  1. ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের সাক্ষাৎকার, যুগান্তর (২০২৫)

  2. মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট (২০১৬–২০২৪)

  3. বাংলাদেশে গুম ও মানবাধিকার ইস্যু সংক্রান্ত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল প্রতিবেদন

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency