| বঙ্গাব্দ

শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলা বাতিল: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-08-2025 ইং
  • 3495406 বার পঠিত
শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলা বাতিল: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
ছবির ক্যাপশন: শহিদুল আলম

ChatGPT said:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শহিদুল আলমের মামলা বাতিল ঘোষণা: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: যুগান্তর ও আদালত পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা মামলা অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলমান এই মামলায় আইনি অবসান ঘটল আজ বৃহস্পতিবার, হাইকোর্টের রায়ে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে গেছে।

সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান

২০১৮ সালের আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়
পরদিন, ৬ আগস্ট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় "উসকানিমূলক ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে" তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
জেলেই থাকতে হয় প্রায় সাড়ে তিন মাস।
পরে ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলা স্থগিত ও রুল জারি

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং রুল জারি করেন— কেন এই মামলাটি বাতিল ঘোষণা করা হবে না।
এর প্রেক্ষিতে শহিদুল আলম আদালতে আবেদন করেন মামলা বাতিলের জন্য।
অবশেষে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই রায় প্রদান করে, যার মাধ্যমে মামলাটি অবৈধ ঘোষিত হলো।

আইনি পটভূমি ও আইসিটি আইন বিতর্ক

২০০৬ সালে প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) পরবর্তীকালে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
বিশেষ করে এর ৫৭ ধারা সংবাদমাধ্যম, মতপ্রকাশ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে আইসিটি আইন বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়, যেখানে ৫৭ ধারার সংশোধিত সংস্করণ রাখা হয়।
তবে তার আগেই শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল আইসিটি আইনে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০১৮ থেকে ২০২৫

শহিদুল আলমের গ্রেফতার এবং মামলাটি দেশের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল।
বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে একটি “ভয়হীন কণ্ঠ” হিসেবে তুলে ধরা হয়।
জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মামলাটি হয়ে ওঠে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রতীকী লড়াই।
২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কারে এই মামলা বাতিল এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদরুদ্দিন তৌফিক বলেন,

“এই রায় শুধু শহিদুল আলমের নয়, মতপ্রকাশের অধিকারের জয়। এটি প্রমাণ করে যে বিচার বিভাগ এখন আগের চেয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”

আইনজীবী সারা হোসেন বলেন,

“আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা ছিল অস্পষ্ট ও বিতর্কিত। এই রায় আমাদেরকে আরও বেশি মানবাধিকারবান্ধব ও সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।”

শহিদুল আলমের প্রতিক্রিয়া

হাসপাতাল থেকে এক বিবৃতিতে শহিদুল আলম বলেন,

“আমি কৃতজ্ঞ—এই রায় শুধু আমার না, এটা সকল মতপ্রকাশকারী নাগরিকের জয়।
আমি বিশ্বাস করি, এই রায় দেশের মুক্ত গণমাধ্যম ও মানুষের কণ্ঠকে সাহস জোগাবে।”


সূত্র:

  • যুগান্তর, ৭ আগস্ট ২০২৫

  • হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ

  • শহিদুল আলম জামিন রায়, নভেম্বর ২০১৮

  • বিবিসি ও আল–জাজিরা রিপোর্ট

  • Amnesty International Bangladesh Reports 2018–2023

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency