প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৭ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
ঘটনার ঠিক একদিন পরই ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ‘বন্ধু হারানোর বিচার চাই’, ‘আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবি’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রতিষ্ঠান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার কলেজ ক্যাম্পাসে পরিদর্শনে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে ধরেন।
তীব্র আবেগ, ক্ষোভ আর কান্নায় তারা তুলে ধরেন তাদের দাবিসমূহ।
পরে তারা কলেজের ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় কনফারেন্স কক্ষে যান এবং ৫–৭ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিনিধি আলোচনা শুরু হয়। বাইরে তখনও শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করতে থাকেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন—
নিহতদের সঠিক নাম, পরিচয় ও তালিকা প্রকাশ
আহতদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য জানানো
ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রশিক্ষণ নিষিদ্ধ
ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো বিমান বাতিল করে আধুনিক প্রশিক্ষণ বিমান চালু
সর্বোচ্চ স্তরের তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা
সকাল সোয়া ৯টার দিকে দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়,
“দিয়াবাড়ি গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের জমায়েত, সভা বা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা যাবে না।”
এই ঘোষণার পরেও শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন—তাদের মতে,
“আমরা শোক করছি, বিদ্রোহ নয়। প্রশ্ন করছি, বিদ্বেষ নয়।”
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবাসিক হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিতে ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন।
হায়দার আলী হোস্টেলের পেছনের অংশটি যেহেতু বিধ্বস্ত ভবনের কাছেই, সেখানকার পরিবেশ এখনো থমথমে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন,
“আজ সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। চারটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৭৮ জন।”
কলেজ পরিচালক রাসেল তালুকদার জানান,
“এক নম্বর ভবনের নিচে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। যেখানে হতাহতদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
“আমরা কি শুধু পরীক্ষায় ভালো করলেই নিরাপদ থাকি? না কি এখন আমাদের প্রাণেও ভয় রাখতে হবে স্কুলে এসেও?”
— এক শিক্ষার্থীর জবাবহীন কান্নায় ছাপ রেখে যায় আজকের দিন।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |