| বঙ্গাব্দ

দুবাই হোটেল ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৯৫০ মিলিয়ন দিরহাম প্রতারণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-07-2025 ইং
  • 3646918 বার পঠিত
দুবাই হোটেল ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৯৫০ মিলিয়ন দিরহাম প্রতারণা
ছবির ক্যাপশন: ৯৫০ মিলিয়ন দিরহাম প্রতারণা


🇮🇳 ভারতে ৯৫০ মিলিয়ন দিরহাম মূল্যের ক্রিপ্টো জালিয়াতি: দুবাইয়ের হোটেল ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ফরিদাবাদ, ভারত | ৬ জুলাই ২০২৫:
ক্রিপ্টো বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার ভারতীয়কে প্রতারিত করে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক দুবাই-ভিত্তিক হোটেল ব্যবসায়ী। ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন দিরহাম (২২০ কোটি রুপি) মূল্যের অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

কে এই প্রতারক?

৩৯ বছর বয়সী এই সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুবাই মারিনায় একটি চার-তারকা হোটেলের মালিক। তিনি মূলত HPZ Token Scam নামে পরিচিত এক জাল ক্রিপ্টো প্রকল্পের মাস্টারমাইন্ড বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত চতুর—ভারতের বিনিয়োগকারীদের অবাস্তব রিটার্নের লোভ দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ, এরপর সেই অর্থকে দুবাইয়ে পাচার করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে চীনা পরিচালকের কাছে হস্তান্তর। এবং এখান থেকেই তিনি নিজেও মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন।

কিভাবে ধরা পড়লেন?

হরিয়ানার ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র যশপাল যাদব জানিয়েছেন, “এই মামলায় এটি আমাদের বড় সাফল্য। প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে একটি ফেক পেমেন্ট গেটওয়ে অ্যাকাউন্ট ট্রেস করার মাধ্যমে। এই অ্যাকাউন্টটি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে খোলা হয়েছিল।”
তাকে দিল্লির রোহিনী সেক্টর ১১ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।

HPZ Token Scam: প্রতারণার বিস্তারিত চিত্র

বিষয়তথ্য
স্ক্যাম নামHPZ Token
জালিয়াতির পরিমাণ২২০ কোটি রুপি / ৯৫৬ মিলিয়ন দিরহাম
কার্যকাল২০২১–২০২৪ (প্রাথমিক অনুমান)
জালিয়াতির ধরনউচ্চ রিটার্নের লোভ, অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ
অর্থ পাচার পদ্ধতিপেমেন্ট গেটওয়ে → দুবাই → ক্রিপ্টো → চীনা হ্যান্ডলার
ভারতের ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এ-সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চক্রটি মূলত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে। পরে তাদের বিনিয়োগের অর্থ চেইন মডেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

পেছনের প্রেক্ষাপট: ভারতে ক্রিপ্টো প্রতারণার বিস্তার

গত পাঁচ বছরে ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে ক্রিপ্টো-ভিত্তিক প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর প্রধান কারণগুলো:

  • সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্রিপ্টো বিষয়ে স্বল্প জ্ঞান

  • রেগুলেশন ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতি

  • উচ্চ রিটার্নের লোভ

  • বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবহার

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি আইন না থাকায় অনেক প্রতারক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেইন মডেল চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কী শিখবে এখান থেকে?

বাংলাদেশেও ডিজিটাল ফিন্যান্স, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপ ও এমএলএম কোম্পানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। BFIU এর মতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ১৫টির বেশি ক্রিপ্টো অ্যাপ কার্যক্রম চালানোর প্রমাণ মিলেছে যেগুলো BTRC ব্লক করেছে।

সতর্কতা জরুরি:

  • বিনিয়োগের আগে অবশ্যই রেগুলেটরি অনুমোদন যাচাই করুন।

  • “অবাস্তব রিটার্ন” প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতারণা হতে পারে।

  • বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে বা অননুমোদিত ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে ট্রান্সফার ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা

দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেলের ছায়ায় যে এত বড় প্রতারণা চলছিল, তা হয়তো অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে, আধুনিক প্রতারণা আর কাস্টমার-লোভনীয় প্রযুক্তি একসাথে গেলে বিপদ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। ভারত ইতোমধ্যে HPZ টোকেন স্ক্যামকে "ডিজিটাল যুগের চিট ফান্ড" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বাংলাদেশও যেন এমন ফাঁদে না পড়ে, সে বিষয়ে এখনই আইন-নীতি, সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারির উন্নয়ন জরুরি।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency