প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: উত্তরের জনপদ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার কোটি মানুষের ভাগ্যবদলের হাতিয়ার ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চীনের কাছে ৫৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬,৭১০ কোটি টাকা) ঋণ চাইলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনো মেলেনি ইতিবাচক সাড়া। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের আগে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ঋণ চুক্তিতে কেন এই স্থবিরতা? অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বুধবার জানিয়েছেন, চীনের কাছে চাওয়া ঋণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট নেই। মূলত চীন যেকোনো প্রকল্পে অর্থায়নের আগে সেটির উপযোগিতা ও রিটার্ন নিয়ে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো চীনের এই ‘ধীরে চলো’ নীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার রূপরেখা ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’-এর আওতায় ১০৮ কিলোমিটার নদী খনন, ১৭৩ কিলোমিটার তীর রক্ষা এবং নদীর দুই পাড়ে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনর হোয়াংহো নদীর মতো অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত হবে তিস্তা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ তিস্তা নদী প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো। ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকেই এই অঞ্চলের কৃষি ও যাতায়াতে তিস্তা ছিল প্রধান প্রাণশক্তি। তবে স্বাধীনতার পর থেকে বিশেষ করে গত কয়েক দশকে ভারতের সাথে পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদীটি মরুভূমিতে পরিণত হয়।
১৯৭১-এর পর থেকে বিভিন্ন সরকার তিস্তা নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভারত বনাম চীন ভূ-রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে আটকে গেছে এর উন্নয়ন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঝোঁক ভারতের দিকে থাকলেও বর্তমান সরকার চীনের প্রযুক্তি ও অর্থায়নকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে এসেও এই প্রকল্প আলোর মুখ না দেখা উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে আরও ঘনীভূত করছে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিই তিস্তা বেষ্টিত। নদী শাসন না হওয়ায় গত ৫ বছরে গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারো পরিবার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হলে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু নথিপত্র এবং ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনেই এখনো দীর্ঘসূত্রতা রয়ে গেছে।
সূত্র: ১. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) ও পরিকল্পনা কমিশন সচিবালয় (২০২৬)। ২. যুগান্তর সংবাদ প্রতিবেদন (জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের দ্বিপাক্ষিক চিঠিপত্র আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |