গাজার উত্তরাংশে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ ফটোসাংবাদিক ফাতিমা হাসুনা। হামলায় তার সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের আরও ১০ সদস্য, যার মধ্যে ছিলেন তার গর্ভবতী বোনও। মাত্র কয়েকদিন পরই ছিল তার বিয়ে, কিন্তু তার আগেই বিয়ের ঘর নয়, তাকে যেতে হলো কবরের ঘরে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৬ এপ্রিল), যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, হামলাটি ছিল হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে, যে নাকি ইসরায়েলি বেসামরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত।
ফাতিমা আগে থেকেই জানতেন, গাজায় সাংবাদিকতার পেশা মানেই মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রতিনিয়ত। তাই হয়তো কিছুদিন আগে তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা লিখেছিলেন—"আমি যদি মারা যাই, তাহলে চাই না যেন আমার মৃত্যু হয় নিঃশব্দে। আমি চাই, এমন এক মৃত্যু হোক যা বিশ্ব শুনবে। চাই, এমন প্রভাব রাখুক যা সময়ের গর্ভেও ঢাকা পড়বে না।"
দুঃখজনক হলেও সত্যি, তার সেই কথাগুলোই যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিলো।
মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, ফাতিমার জীবন ও কাজ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে। প্রামাণ্যচিত্রটির নাম "Put Your Soul on Your Hand and Walk", যেটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা সেপিদেহ ফারসি।
এই প্রামাণ্যচিত্রে ফাতিমা ও ফারসির ভিডিও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে গাজার দৈনন্দিন জীবনের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ফারসি বলেন—
“ফাতিমা ছিল আমার গাজার চোখ। সে ছিল প্রাণবন্ত, সাহসী, আশা ও হতাশার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।”
গাজার চলমান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। ফাতিমা তাদেরই একজন, যিনি শুধু ছবি তুলতেন না, বরং যুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে সত্য তুলে ধরতেন বিশ্ববাসীর সামনে।
তার মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি সাংবাদিকতার সাহস, একজন নারীর প্রতিরোধ, এবং মানবিক সত্য তুলে ধরার জন্য জীবন উৎসর্গ করার এক চিত্র।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |